নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘বর্তমান’-এর খবরেই সিলমোহর! বাধ্যতামূলক পিএফের মাসিক ১৫ হাজারি বেতন সীমা বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করল কেন্দ্র। অর্থাৎ, এতদিন ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতনের উপর পিএফ দিতে বাধ্য থাকত সংস্থা। এখন সেই সীমাটাই বাড়িয়ে করা হল ২৫ হাজার। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এব্যাপারে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে সারা দেশের বেসরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত প্রায় ৫১ লক্ষ কর্মচারী উপকৃত হবেন। এই মুহূর্তে দেশব্যাপী ইপিএফের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৯৮ লক্ষ। পাশাপাশি, এই সিলিংয়ের উপর ভিত্তি করে যে কর্মীদের পিএফ-পেনশন খাতে টাকা জমা পড়ত, সেই অঙ্কটা কিছুটা হলেও বাড়বে। এবং ১৫ হাজারের নিরিখে পেনশন খাতে যে টাকা জমা পড়ত, তা এবার বেড়ে ২৫ হাজারের নিরিখে জমা পড়বে। আজ, ১৭ সেপ্টেম্বরই এই নয়া ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
ইপিএফে বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তির বেতন সীমা বাড়লেও সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি ইএসআই নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এদিন কেন্দ্র নেয়নি। একইভাবে মাসে ইপিএফের ন্যূনতম পেনশনের পরিমাণ এক হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধির বিষয়েও বুধবার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ২০১৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ইপিএফে বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তির বেতন সীমা বাড়িয়ে মাসে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করা হয়। তার আগে এর পরিমাণ ছিল মাসে সর্বাধিক সাড়ে ছ’হাজার টাকা। ১২ বছর পর বাধ্যতামূলকভাবে ইপিএফের আওতায় আসার জন্য মাসের বেতন সীমার পরিমাণ বৃদ্ধি করল মোদি সরকার। উল্লেখ্য, দেশের বেসরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরাই শর্তসাপেক্ষে ইপিএফের মতো সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবা পেয়ে থাকেন। এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পর কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য জানিয়েছেন, ‘বর্তমানে বেসরকারি ক্ষেত্রে বেতনভুক কর্মচারীদের মাইনে মাসে গড়ে ২৩ হাজার টাকা হয়ে গিয়েছে। এমনকি বহু রাজ্যেই ন্যূনতম মজুরির পরিমাণ মাসে ১৫ হাজার টাকার বেশি করে দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় অদক্ষ শ্রমিক-কর্মচারীরাও রয়েছেন। এরই পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে সাধারণ মানুষের জীবন ধারণের খরচ। তাই সবদিক বিবেচনা করেই এসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।’
আগামী বছরই উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত সহ দেশের সাতটি রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। এহেন সিদ্ধান্তে সেই ভোট-অঙ্কও কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। শ্রমমন্ত্রক জানিয়েছে, বেতন সীমা বৃদ্ধির ফলে ইপিএফওর বছরে খরচ বেড়ে হবে প্রায় ১১ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা। এতদিন এর পরিমাণ ছিল বছরে প্রায় ১০ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। পরবর্তী পাঁচ বছরে খরচের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৫৬ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকায়। দীর্ঘদিন ধরেই এই দাবিতে সরব সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি। এদিন টিইউসিসির সাধারণ সম্পাদক তথা ইপিএফও অছি পরিষদের সদস্য এস পি তিওয়ারি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হল ঠিকই। কিন্তু ঊর্ধ্বসীমার পরিমাণ বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আমরা সরব থাকবই। বৈঠকেও আলোচনা হবে।’