Bartaman Logo
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

কোন অঙ্কে পিএফের আওতায় অতিরিক্ত ৫১ লক্ষ কর্মচারী? কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান নিয়ে ধন্দ

বুধবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছে, বাধ্যতামূলক কর্মী পিএফের (ইপিএফ) বেতন সীমা মাসে ১৫ হাজার থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ হাজার টাকা করা হচ্ছে।

কোন অঙ্কে পিএফের আওতায় অতিরিক্ত ৫১ লক্ষ কর্মচারী? কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান নিয়ে ধন্দ
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বুধবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছে, বাধ্যতামূলক কর্মী পিএফের (ইপিএফ) বেতন সীমা মাসে ১৫ হাজার থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ হাজার টাকা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে তা সারা দেশে কার্যকরও হয়ে গিয়েছে। একইসঙ্গে সরকার দাবি করেছে, এহেন সিদ্ধান্তের ফলে দেশব্যাপী বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত প্রায় ৫১ লক্ষ কর্মচারী উপকৃত হবেন বা কর্মী পিএফের আওতায় আসবেন। কিন্তু কোন অঙ্কে ইপিএফের গ্রাহক সংখ্যা বাড়তি ৫১ লক্ষ হতে চলেছে? শ্রমমন্ত্রকের এসংক্রান্ত পরিসংখ্যান নিয়ে ধন্দ জারিই রয়েছে। 

Advertisement

এখানেই শেষ নয়। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, প্রায় ৫১ লক্ষ অতিরিক্ত গ্রাহক নিয়ে বিবৃতি জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এবিষয়ে নতুন ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য জানিয়েছেন, মোদি সরকারের সিদ্ধান্তের ফলে অন্তত এক কোটি নয়া গ্রাহক ইপিএফের অধীনে আসবেন কিংবা উপকৃত হবেন। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট বিবৃতি জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইপিএফে সম্ভাব্য নয়া গ্রাহকের সংখ্যা ৫১ লক্ষ থেকে বেড়ে হয়ে গিয়েছে এক কোটি। এর ফলে গোটা বিষয়টি নিয়ে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কীভাবে এই হিসাব পাওয়া যাচ্ছে, তার কোনো ব্যাখ্যা অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রমমন্ত্রক দিতে পারেনি। যদিও মন্ত্রক সূত্রে ইপিএফ প্রাপ্তির নিয়ম সংক্রান্ত সাফাই দেওয়া হচ্ছে। সেই নিয়ম বলছে, দেশের যেসব বেসরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম ২০ জন কর্মী আছেন, সেই সংস্থাগুলি ইপিএফওর আওতায় থাকে। এতদিন ওইসব সংস্থার যে কর্মী মাসে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পেতেন, তিনি বাধ্যতামূলকভাবেই ইপিএফের মতো সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবা পেতেন। তার বেশি বেতন প্রাপকদের জন্য ইপিএফ পরিষেবা ছিল ঐচ্ছিক। বাধ্যতামূলক নয়। বৃহস্পতিবার থেকে বাধ্যতামূলক ইপিএফ পরিষেবা প্রাপ্তির ওই বেতন সীমাই বাড়িয়ে মাসে সর্বাধিক ২৫ হাজার টাকা  করা হয়েছে। অর্থাৎ, এখন থেকে মাসে ২৫ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে বেসরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠানের বেতন প্রাপক কর্মীদের জন্য ইপিএফ পরিষেবা ঐচ্ছিক হচ্ছে। বিভ্রান্তি কাটাতে একপ্রকার সাফাই দিয়ে শ্রমমন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, মাসে ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন সীমার যে বর্ধিত অংশটি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন, তাদের সংখ্যা ৫১ লক্ষ থেকে এক কোটির আশেপাশে। উপকৃত হবেন তাঁরাই। এআইটিইউসির সাধারণ সম্পাদক অমরজিৎ কৌরের অভিযোগ, ‘কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে কারো উপকৃত হওয়ার আশা বিশেষ নেই। কারণ বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের মাসে গড় মাইনে এখন তুলনায় অনেক বেশি। বেতন সীমা বাড়িয়ে মাসে অন্তত ৩০ হাজার টাকা করা উচিত।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ