সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তারাপীঠের চণ্ডীপুর মৌজায় বন্ধ করে দেওয়া ১৫টি হোটেলের ‘ক্লোজিং নোটিশ’ সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হল। আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যায় লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। সেই সময় যাতে থাকার সমস্যা তীব্র না হয় তারজন্যই এই ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। মহকুমা শাসক অশ্বিন বি রাঠোর সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী দু’মাসের জন্য সাময়িকভাবে এই নির্দেশ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে ফায়ার এনওসি, সরাই লাইসেন্স, ইলেকট্রিক ওয়ারিং ও খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করে বৈধ কাগজপত্র প্রশাসনের কাছে জমা ও মুচলেকা দিতে হবে। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে দু’মাস পর ফের হোটেলগুলি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৭আগস্ট ভোরে তারাপীঠের বিদেশিনী হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই শিশু সহ ন’জন পুণ্যার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে রাজ্যজুড়ে তোলপাড় পড়ে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ফায়ার এনওসি, সরাই লাইসেন্স বা খাদ্যসুরক্ষা ছাড়পত্র ছাড়া প্রচুর হোটেল চললেও প্রশাসনিক নজরদারি কার্যত শূন্য। সমালোচনার মুখে পড়ে কড়া পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন। দমকল, বিদ্যুৎ, পূর্ত ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত টিম চারশোরও বেশি হোটেলে সেফটি অডিট চালায়। নিয়ম না মানায় ১৫টি হোটেল অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ২৬০টি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছিল। বন্ধের ভয়ে সমস্ত হোটেল সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে বলে প্রশাসনের দাবি।
শনিবার রামপুরহাটের রক্তকরবী পুরমঞ্চে তারাপীঠ ও রামপুরহাটের হোটেল কর্মীদের নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে দমকল বিভাগ। উপস্থিত ছিলেন মহকুমা শাসক অশ্বিন বি রাঠোর, বিধায়ক ধ্রুব সাহা, তারাপীঠের দমকল আধিকারিক নীলাদ্রি মজুমদার প্রমুখ। হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে কীভাবে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং পর্যটকদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত সেবিষয়ে ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র সঠিকভাবে চালানোর পদ্ধতি কর্মীদের শেখানো হয়। বিধায়ক ধ্রুববাবু বলেন, হোটেল কর্মীদের যদি ফায়ার প্রশিক্ষণ থাকত তাহলে বিদেশিনী হোটেলের অগ্নিকাণ্ড এড়ানো যেত। আর যাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য এই প্রশিক্ষণের আয়োজন।
এদিন প্রশিক্ষণ শেষে ১৫টি হোটেলের ক্লোজিং অর্ডার সাময়িক প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মহকুমা শাসক। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আর মাত্র চারদিন পরই তারাপীঠের সবচেয়ে বড় উৎসব কৌশিকী অমাবস্যা। সেইসময় প্রায় ৬ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। হোটেলের সংকট তৈরি হয়। পুণ্যার্থীদের থাকার সুব্যবস্থা ও সুরক্ষার কড়া শর্তে সাময়িকভাবে হোটেলগুলি খোলার অনুমতি দিল প্রশাসন। মহকুমা শাসক জানিয়েছেন, সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। আগামী তিন মাসের মধ্যে হোটেল কর্মীদের জন্য ফের এধরনের প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হবে।