নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাঠদানের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন স্পেশাল এডুকেটরদের স্কুলে স্থায়ী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য তথ্য যাচাই করছে স্কুলশিক্ষা দপ্তর। বিভিন্ন স্কুলে চুক্তির ভিত্তিতে নিযুক্ত ১০৭৫ জন শিক্ষকের যোগ্যতা সম্পর্কিত নথি ঠিক থাকলেই তাঁরা পেতে চলেছে পাকা চাকরি। জেলাস্তরে নথি যাচাই আগেই শেষ হয়েছে। এর পরে শুরু হয়েছে রাজ্য স্তরের নথি যাচাই প্রক্রিয়া। চলবে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত। তবে, পদ্ধতিগত একটি ত্রুটির অভিযোগ তুলে নিয়োগের গোটা প্রক্রিয়াই এতে ভেস্তে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এরকম শিক্ষকদের অনেকে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই রাজ্যে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আপাতত প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিক স্তরে তাঁদের নিয়োগ করা হবে। আপাতত শূন্যপদ রয়েছে ৫,২৯৮টি। তবে, কর্মরত শিক্ষকদেরই অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ শুরু হচ্ছে। এঁদের মধ্যে প্রায় সাড়ে চারশো জন প্রাথমিক স্তরে শিক্ষকতার যোগ্যতা সম্পন্ন। বাকিদের স্পেশাল বিএড ডিগ্রি রয়েছে। তাঁরা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রির ভিত্তিতে মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলেও পড়াতে পারেন। তবে, সরকার আপাতত মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে নিয়োগ দিচ্ছে না। তবে, সরকার কর্মরত শিক্ষকদের পাশাপাশি জেলা কনভেনার হিসেবে কর্মরতদেরও ডেটা ভেরিফিকেশন এবং স্ক্রিনিং করছে। এখানেই আপত্তি কর্মরত শিক্ষকদের।
দীর্ঘদিন ধরে স্পেশাল এডুকেটরদের স্থায়ীকরণের আন্দোলন এবং আইনি লড়াইয়ে যুক্ত শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ মিস্ত্রি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট যেখানে কর্মরত শিক্ষকদের নিয়োগ করতে বলেছে, সেখানে কনভেনারদের এটার সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক হচ্ছে না। আমরা দেখেছি কীভাবে কিছু অযোগ্য শিক্ষকের জন্য এসএসসি’র গোটা প্যানেলই বাতিল হয়ে গিয়েছে। আমাদের ক্ষেত্রেও আমরা তেমনই আশঙ্কা করছি।’ জেলা কনভেনার রয়েছেন মাত্র ১৭ জন। তাঁদের চাকরি দিলে পুরো প্যানেল বাতিল হবে কেন? শূন্যপদ তো রয়েছে অনেক বেশি। এর ব্যাখ্যা দিয়ে ইন্দ্রজিৎবাবু বলেন, ‘কনভেনারদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং স্পেশাল এডুকেশনের ডিগ্রি শিক্ষকদের সমতুল ঠিকই। তবে, তাঁদের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নেই। এই যুক্তিতে নতুন চাকরি প্রার্থীরা মামলা করতে পারেন। অন্য রাজ্যেও কর্মরত শিক্ষকদেরই নিয়োগ করা হচ্ছে।’ সরকার বরং তাঁদের নিয়োগের জন্য পৃথক ব্যবস্থা করুক, এটাই চাইছেন শিক্ষকরা। সূত্রের খবর, সব ঠিকঠাক থাকলে এমাসেই প্রকাশিত হতে পারে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। তারপরে স্রেফ কাউন্সেলিং পর্বের পরেই তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হবে। এক আধিকারিক বলেন, সমস্ত আইনি দিক খতিয়ে দেখেই এগনো হবে। শিক্ষকদের আশঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।