


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য পুলিশের পরবর্তী ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিজি) কে হবেন? ভারপ্রাপ্ত ডিজি থেকে কী স্থায়ী ডিজি হবেন রাজীব কুমার? এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নয়াদিল্লি। কিন্তু, বর্তমানে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করেই ইউপিএসসি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মধ্যে চূড়ান্ত মতপার্থক্যের জায়গা তৈরি হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। ডিজি নিয়োগ সংক্রান্ত একটি বিধি নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। ডিজি পদে যাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তাঁর কর্মজীবনের অন্তত ছয় মাস বাকি থাকা বাধ্যতামূলক। রাজীব কুমারের কর্মজীবনের শেষ দিন হল ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি। অর্থাৎ, হাতে আর মাত্র তিন মাস। কিন্তু, ভারপ্রাপ্ত ডিজি’র দায়িত্বে থাকা রাজীব কুমারকে পূর্ণাঙ্গ ডিজি করার আর্জি রাজ্যের তরফে যে সময় কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছিল, সেই সময় তাঁর কর্মজীবনের বাকি ছিল ছয় মাসের বেশি। ফলে এইক্ষেত্রে রাজ্যের তরফে কোনও গাফিলতি নেই। সেই ক্ষেত্রে আজকের দিনে দাঁড়িয়ে তাঁর কর্মজীবনের ছয় মাস বাকি না থাকলেও, তাঁকে ডিজি করার ক্ষেত্রে ইউপিএসসির কোনও বাধা নেই বলেই প্রশাসনিক মহলের জোর গুঞ্জন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে ইউপিএসসি’র সঙ্গে সহমত পোষণ করা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। আর নয়াদিল্লির দুই সংস্থার এই মত পার্থক্যের গেরোয়ে ঝুলে রাজ্য পুলিশের স্থায়ী ডিজি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি। তবে, প্রবীণ আমলা ও পুলিস কর্তাদের মতে, এই ক্ষেত্রে ইউপিএসসি’র মতামতই প্রাধান্য পাওয়ার কথা। ফলে রাজীব কুমারেরই স্থায়ী ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলেই তাঁরা মনে করছেন।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজির দায়িত্ব পেয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের ১৯৮৯ ব্যাচের আইপিএস অফিসার রাজীব কুমার। গত বছর লোকসভা ভোট ঘোষণার পরে তাঁকে ডিজির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ভোটের পর তাঁকে ওই পদে ফিরিয়ে এনেছে রাজ্য। কিন্তু, হঠাৎ করে ডিজি প্রসঙ্গ উঠছে কেন? সূত্রের খবর, ইউপিএসসি’র একটি বৈঠকে যোগ দিতে বুধবার দিল্লি গিয়েছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। সেখানেই রাজ্যের পরবর্তী স্থায়ী ডিজি নিয়ে কেন্দ্রের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। এই বৈঠকের পর থেকেই বিভিন্ন সূত্র মারফত প্রকাশ্যে আসে, বিধি নিয়ে দুই সংস্থার মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়টি। বিষয়টি কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ডিওপিটি’রও নজরে রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।