Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘কমিশন সভা করতে না দিলেও মানুষ আসবে’, ‘চায়ের আড্ডা’ বসিয়েই ভিড়ে বাজিমাত মমতার

বিকালে যা ছিল হুঁশিয়ারি, সন্ধ্যায় দেখা গেল সেটাই ঘোর বাস্তব!

‘কমিশন সভা করতে না দিলেও মানুষ আসবে’, ‘চায়ের আড্ডা’ বসিয়েই ভিড়ে বাজিমাত মমতার
  • ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায় ও অর্ক দে, বারাকপুর ও কলকাতা: বিকালে যা ছিল হুঁশিয়ারি, সন্ধ্যায় দেখা গেল সেটাই ঘোর বাস্তব! মঙ্গলবার জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনি সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, নির্বাচন কমিশন ভবানীপুরে সভার অনুমতি না দিলেও তাঁকে আটকে রাখা যাবে না। তিনি চায়ের দোকানে বসে থাকলেই মানুষ চলে আসবে। তার জন্য কমিশনের অনুমতি লাগবে না। কয়েক ঘণ্টা পর দেখা গেল, ভবানীপুর কেন্দ্রের অন্তর্গত কলিন্স স্ট্রিটের মোড়ে একটি চায়ের দোকানে গিয়ে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে ভিড় জমে গেল। নিতান্তই ঘরোয়া আলাপচারিতার মাধ্যমে নিজের নির্বাচনি কেন্দ্রে একদফা জনসংযোগ সেরে নিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। স্লোগান উঠল, ‘জয় বাংলা’। 

Advertisement

এদিন বিকালে শ্যামনগর অন্নপূর্ণা কটন মিলের ভিড়ে ঠাসা জনসভা থেকে মমতা বলেন, ‘আমাকে পারমিশন না দিয়ে ভাবছে আটকে দেবে। ভবানীপুরে আমার একটা প্রোগ্রাম ছিল। রিটার্নিং অফিসার পারমিশন দেবেন না বলছেন। দেবেন না তো  দেবেন না! আমি চা খেতে চলে যাব। দেখি আটকায় কীভাবে? আমি রাস্তায় বসে থাকলেই সবাই চলে আসবে। সাহস থাকলে আমার মিটিং বন্ধ করে দেখাও।’ তাঁর এই হুঁশিয়ারি যে স্রেফ কথার কথা নয়, সন্ধ্যায় কলিন্স স্ট্রিটের চায়ের দোকানের দৃশ্য যেন তারই প্রমাণ! ওই সভা থেকে তৃণমূল নেত্রী কমিশনকে তোপ দেগে আরও বলেন, ‘ভবানীপুরে যিনি রিটার্নিং অফিসার হয়েছেন, তাঁর বিডিও হওয়ার যোগ্যতা নেই। গদ্দার তাকে নিয়ে এসেছে। ভোটের পর তাঁকে রাষ্ট্রপতি করে না রাজ্যপাল করে, আমিও দেখব। সাহস থাকলে আমার মিটিং বন্ধ করে দেখাও। ইটের জবাব আমি পাটকেলে দিই। আমি শুনছি ৬৩, ৭৪ ও ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড বেছে নিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে ছাপ্পা করাবে। আমাকে চেনে না, আমি পালটা ধাপ্পা দেব। বিচুটি পাতার ঝোল খাওয়াব।’ তাঁর হুংকার, ‘আমাকে ব্যান করবে বলছে! বাড়িতে বসে সত্যাগ্রহ করব। সারা পৃথিবী দেখবে। লড়াইতে এক ইঞ্চি জমি ছাড়ব না। কিছু পুলিশ ওদের হয়ে কাজ করছে।’ 
শ্যামনগরে বক্তৃতার শুরুতেই মমতা বলেন, ‘এখানকার প্রার্থী আমার ভাই সোমনাথ শ্যাম। ওঁকে নাকি নির্বাচনের আগে গ্রেপ্তার করবে।’ জগদ্দলে বিজেপি প্রার্থী করেছে প্রাক্তন পুলিশ অফিসার ডঃ রাজেশ কুমারকে। তাঁর নাম না করে মমতা বলেন, ‘এখানে বিজেপি একজন চোর পুলিশকে দাঁড় করিয়েছে। আগে পুলিশ ছিল। এই লোকটা নন্দীগ্রামে আমার ভোট দখল করেছিল। ও গদ্দারের লোক। আমার কাছে টিকিট চেয়েছিল। আমি দিইনি। কেন দেব? সবচেয়ে বড় ডাকাতরা বিজেপির প্রার্থী। পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডে ওকে পাঠিয়েছিলাম। সেখানে পলিউশন করেছে। শ্যামকে গ্রেফতার করে ভোটে জিততে চাইছে। ও জেলে থাকলে ডবল ভোটে জিতবে। আমার কর্মীরা কী করতে আছে?’ মুখ্যমন্ত্রীর এই কথা শুনে হাততালি ও উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে সভাস্থল। সোমনাথ শ্যাম গ্রেপ্তার হলে মহিলাদের রাস্তায় নামার আবেদন করেন মমতা। পালটা বিজেপির প্রার্থী ডঃ রাজেশ কুমার বলেন, ‘চোরের মায়ের বড় গলা। আমার জন্যই ওঁকে জগদ্দলে আসতে হল।’
জগদ্দলের আগে বারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তীর সমর্থনে টিটাগড় লুমটেক্স জুট মিলের মাঠে সভায় মমতা প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার অনুরোধ করেন। নোয়াপাড়া কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংহের বিরুদ্ধে মালিকদের থেকে টাকা খেয়ে জুট মিল বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ