নয়াদিল্লি: শ্রীমান নকুড়চন্দ্র বিশ্বাসের কথা মনে আছে? মাকড়দার এই বাসিন্দার ছিল আশ্চর্য ক্ষমতা। টেলিপ্যাথি, থটরিডিং, ক্লেয়ারভয়েন্স, অতীত দর্শন, ভবিষ্যৎ দর্শনের মতো নানান গুণ ছিল তাঁর। সেসব যেমন নিজে দেখতে পেতেন, তেমনই মনের জোরে অন্য লোককেও দেখিয়ে দিতে পারতেন। বিজ্ঞানে তার ব্যাখ্যা সম্ভব হয়নি। প্রিয় তিলুবাবুকে গিরিডির ঘরেই একাদশ শতাব্দীর চীনের কাইফেং শহরে সম্রাট শেন জুংয়ের স্মৃতিতে তৈরি জলঘড়ি দেখিয়েছিলেন। ব্রাজিলের পর সেই ঘটনায় আরও একবার নকুড়বাবুর দুর্লভ ক্ষমতা টের পেয়েছিলেন প্রফেসর শঙ্কু।
সে সবই অবশ্য ঘটেছিল বইয়ের পাতায়। কিন্তু বর্তমান সময়ের কোনও শহর অতীতে কেমন ছিল, তা দেখার ইচ্ছে হলে? সত্যজিৎ রায়ের সুবাদে তিলুবাবুর একজন নকুড়বাবু ছিলেন। কিন্তু আমাদের? সেই আক্ষেপ বোধহয় মিটতে চলেছে গুগলের সৌজন্যে। টাইম ট্রাভেল করে অতীতে ঘুরে দেখার সুযোগ দিচ্ছে এই টেক জায়ান্ট। শুনে অবাক হচ্ছেন? হবেন না। আসলে প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া প্রযুক্তিনির্ভর দুনিয়ায় এখন ‘অসম্ভব’ শব্দের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌলতে প্রায় সবই হাতের মুঠোয়। সেই তালিকায় এবার নতুন অধ্যায় জুড়ছে গুগল। টাইম ট্রাভেল শুনলে মনে হতে পারে আপনি বুঝি টাইম মেশিনে চেপে ফেলে আসা সময়ে ঘুরে আসতে পারবেন। বিষয়টি অবশ্য তেমন নয়। আসলে উন্নয়নের সুবাদে অতি-দ্রুত বদলে যাচ্ছে বড় বড় সব শহর। তা সে কলকাতা হোক বা লন্ডন। সেই জায়গাটি আগে কেমন ছিল, তা সহজেই দেখতে পাবেন গুগলের টাইম ট্রাভেল প্রযুক্তির সুবাদে। তবে খুব বেশি অতীতে ফিরতে পারবেন না। আপাতত অতীত-সফরে ৩০-৪০ বছর পিছনে নিয়ে যেতে পারবে প্রযুক্তি। জায়গাটি কেমন ছিল, তার ত্রিমাত্রিক দৃশ্য দেখা যাবে ঘরে বসেই। তবে লন্ডন, বার্লিন, প্যারিসের মতো কিছু শহর ১৯৩০ সালে কেমন ছিল, তাও দেখা যাবে। এখনকার সঙ্গে তুলনাও করতে পারবেন অতীত-সফররত ব্যবহারকারী।
গুগল ম্যাপ ও গুগল আর্থে অতীত সফরের এই প্রযুক্তির সুবিধা এনেছে সংস্থাটি। নিজের স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে বসেই শুরু করা যাবে এই টাইম ট্রাভেল। কীভাবে? প্রথমেই খুলতে হবে গুগল ম্যাপ বা গুগল আর্থ। এবার যে জায়গাটি আপনি দেখতে চান, সার্চে সেই নামটি লিখুন। জায়গাটি এলে, সেখান থেকে লেয়ার অপশনে গিয়ে টাইম ল্যাপ্সে ক্লিক করলেই কেল্লা ফতে। ঠিক কতটা পিছিয়ে গিয়ে জায়গাটি দেখতে চান, তা নির্দিষ্ট করে দিলেই সেই জায়গাটি অতীতে কেমন ছিল, তা ফুটে উঠবে স্ক্রিনে। শুধু তাই নয়, গুগল ম্যাপ তাদের ‘স্ট্রিট ভিউ’ অপশনের কার্যকারিতা আরও উন্নত করেছে।
এক সময় বাঙালির আড্ডায় গুগলকে মজা করে অনেকেই সিধু জ্যাঠা বলতেন। এই নতুন প্রযুক্তির সুবাদে অনেকে এবার নকুড়বাবু বলেও ডাকেন কি না, সেটাই দেখার।