Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সীমান্ত ঘেঁষা করিমপুরে প্রাচীন পুজো দেখতে ভিড় করে মানুষ

শহরের পুজোর মতো থিম বা আলোকসজ্জা না থাকলেও সীমান্তের বেশকিছু প্রাচীন পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা লোককথা। এই পুজোগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের আবেগ আর নিষ্ঠা।

সীমান্ত ঘেঁষা করিমপুরে প্রাচীন পুজো দেখতে ভিড় করে মানুষ
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: শহরের পুজোর মতো থিম বা আলোকসজ্জা না থাকলেও সীমান্তের বেশকিছু প্রাচীন পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা লোককথা। এই পুজোগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের আবেগ আর নিষ্ঠা। প্রতি বছর দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন এইসব পুজো দেখার জন্য। সেইসব পুজোর মধ্যে করিমপুর ২ ব্লকের দোগাছি গ্রামের রাজবল্লভীর পুজো শুরু হয়েছিল প্রায় ৩০০ বছর আগে। কথিত আছে, নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে রাজবল্লভ নামে এক জেলের জালে উঠে আসে কষ্টিপাথরের দুর্গা ও বিষ্ণু মূর্তি। রানি ভবানী ওই মূর্তিতে পুজো শুরু করেন। এখন অবশ্য ওই পুজো সর্বজনীন। এছাড়া রয়েছে প্রায় চারশো বছরের পুরনো ধোড়াদহের চৌধুরী বাড়ির পুজো। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে পুজো উপলক্ষ্যে মেলা বসলেও এখন আর তা বসে না। তবে জৌলুস হারালেও পুজো হয় প্রাচীন নিয়ম মেনেই। কথিত আছে ১৫৫৭ সালে দিল্লির মোগলদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন যশোরের রাজা বারো ভুঁইয়ার অন্যতম প্রতাপাদিত্য। মোগলদের হাত থেকে নিজের শিশুপুত্রকে বাঁচাতে দেওয়ান দুর্গারাম চৌধুরীকে অনুরোধ করেছিলেন। সেই মতো দুর্গারাম শিশুটিকে নিয়ে অবিভক্ত বাংলার বনজঙ্গলে ঢাকা এই ধোড়াদহে লুকিয়ে ছিলেন। পরে যুদ্ধ শেষে ফিরিয়ে দেন প্রতাপাদিত্যের শিশু পুত্রকে। খুশি হয়ে প্রতাপাদিত্য দুর্গারামকে পাঁচটি মহল দান করেন। সেই সময়ে থেকেই জঙ্গল কেটে আটচালার ঘরে এই দুর্গাপুজো শুরু করেন দুর্গারাম। পলাশীর যুদ্ধে চার বছর আগে ১৭৫৩ খ্রিস্টাব্দে সেই আটচালার ঘর ভেঙে তৈরি হয় পাকা মন্দির। তারপর থেকে আজও সেই রীতি মেনেই পুজো হয়ে আসছে। 

Advertisement

যমশেরপুর বাগচী বাড়ির পুজোও এলাকার প্রাচীন পুজো বলে পরিচিত। আনুমানিক ১২৪৫ সালে এই পুজো শুরু হয়েছিল। সীমান্তের হোগলবেড়িয়া নষ্করী মায়ের পুজো প্রায় ৪৭৫ বছরের পুরনো। আগে বাংলাদেশ থেকেও প্রচুর মানুষ ভিড় করত এপার বাংলার এই পুজো দেখতে। তখন সীমান্তে এত কড়াকড়ি ছিল না। কিন্তু এখন দিন বদলেছে, সীমান্ত পেরিয়ে এখন আর আসতে পারে না ওপার বাংলার মানুষ। নষ্করী মায়ের পুজো উপলক্ষ্যে এখনও মেলা বসে। সীমান্তবর্তী করিমপুরে একটা সময়ে হাতেগোনা কয়েকটি দুর্গাপুজো হতো। বর্তমানে করিমপুরে চল্লিশটিরও বেশি দুর্গাপুজো হয়। শিকারপুর সীমান্তে প্রায় ১২টি পুজো হয়, তারমধ্যে শুধু বাজারেই হয় তিনটে পুজো। এখানে দশমীর দিন বেশিরভাগ প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় স্থানীয় মাথাভাঙ্গা নদীতে। প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় নদীর দুই পাড়ে হাজির থাকেন দুই বাংলার মানুষ। শিকারপুরের বাসিন্দা শিবেন সাহা বলেন, আমাদের ছোটবেলায় দেখা সেই পুজো এখন আর নেই। তখন তো সীমান্ত বলে এরকম কিছু ছিল না। পুজো, ঈদ কিংবা অন্য উৎসবের সময় দু’ দেশে আমাদের অবাধ যাতায়াত ছিল। তখন পুজো ছিল অন্যরকম। এখন দিন বদলালেও পুজো নিয়ে আবেগ কিন্তু একই রকম আছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ