Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জলবন্দি মানুষ, বারাসতে পুরসভার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে পথ অবরোধ, যশোর রোডে ধান গাছ পুঁতে তুমুল বিক্ষোভ

একদিকে জমা জল, অন্যদিকে বেহাল রাস্তা। নাগরিক পরিষেবার লেশমাত্র নেই বারাসত শহরে। এই দুই জ্বলন্ত সমস্যাকে সামনে রেখে মঙ্গলবার শহরের দুই প্রান্তে বিক্ষোভ দেখালেন বাসিন্দারা।

জলবন্দি মানুষ, বারাসতে পুরসভার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে পথ অবরোধ, যশোর রোডে ধান গাছ পুঁতে তুমুল বিক্ষোভ
  • ৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: একদিকে জমা জল, অন্যদিকে বেহাল রাস্তা। নাগরিক পরিষেবার লেশমাত্র নেই বারাসত শহরে। এই দুই জ্বলন্ত সমস্যাকে সামনে রেখে মঙ্গলবার শহরের দুই প্রান্তে বিক্ষোভ দেখালেন বাসিন্দারা। জল জমার কারণে বারাসত-বারাকপুর রোড অবরোধ করেন বাসিন্দারা। অন্যদিকে বেহাল রাস্তার প্রতিবাদে যশোর রোডের শেঠপুকুর মোড়ে অবরোধ করেন ফরওয়ার্ড ব্লকের কর্মীরা। ফলে যানজটে নাকাল হতে হয় সাধারণ নিত্যযাত্রীদের। শেষমেশ দুই জায়গাতেই পুলিস ও প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ উঠে যায়।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টানা বৃষ্টির ফলে বারাসত পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বাড়ির উঠোনে হাঁটু সমান জল। গত ১০ দিন ধরে কার্যত গৃহবন্দি মানুষ। জমা জলের কারণে বহু পড়ুয়াই স্কুলে যেতে পারছে না। জলে ভেসে আসছে সাপ। এরমধ্যেই সাপের কামড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বারাসত-বারাকপুর রোড লাগোয়া এই ওয়ার্ডে নিকাশির সমস্যা দীর্ঘদিনের। এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবিতে মঙ্গলবার বারাসত পুরসভার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এদিন বারাসত-বারাকপুর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, পুরসভার গাফিলতির কারণেই এই ভোগান্তি। এই রাস্তার ধারে গজিয়ে উঠেছে বহু রেস্তরাঁ, কাফে, স্টল। নিকাশি নালা বুজিয়ে সেগুলি গড়ে ওঠার ফলেই জল জমছে। এর প্রভাবে জল জমছে এলাকায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে বারাসত থানার বিরাট পুলিস বাহিনী। হাজির হন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার শিল্পী দাস। তাঁদের ঘিরেও চলে বিক্ষোভ। তাঁরা সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা শেফালী মণ্ডল ও সোমা সরকার বলেন, আমরা ১০ দিন ধরে জলবন্দি। নিকাশির কোনও ব্যবস্থা নেই। রাস্তার ধারে বড় নিকাশি নালা বুজিয়ে বেআইনি নির্মাণের ফলেই জল জমছে। দুর্ভোগ বাড়ছে সাধাৗণ মানুষের। ইতিমধ্যেই সাপের কামড়ে এলাকার এক বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। কাউন্সিলার শিল্পী দাস বলেন, এ বছর বেশি বৃষ্টি হওয়ায় জল জমেছে। পুরসভা ইতিমধ্যেই কাফে, রেস্তরাঁর মালিকদের নোটিল দিয়েছে। চারদিনের মধ্যে কাজ না হলে পুরসভা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
অন্যদিকে, টানা বৃষ্টিতে মরণফাঁদ তৈরি হয়েছে যশোর রোডে। বারাসতের ডাকবাংলো থেকে চাঁপাডালি পর্যন্ত গোটা রাস্তাই বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। তাতে জল জমে বিপজ্জনক আকার নিয়েছে। তার মধ্যেই গাড়ি চলায় প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। দ্রুত যশোর রোড সংস্কারের দাবি তুলে এদিন বিকেলে শেঠপুকুর মোড়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান ফরওয়ার্ড ব্লকের কর্মী-সমর্থকরা। তাঁরা রাস্তায় ধান গাছের চারা পুঁতে বিক্ষোভ দেখান। মিনিট দশেক অবরোধ চলে। পরে বারাসত থানার পুলিস এসে অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বললে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা সম্পাদক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় বলেন, জাতীয় সড়ক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। অবিলম্বে যশোর রোডের দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি। এদিকে, জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, রাস্তা সংস্কারের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বৃষ্টির জন্য কাজ করা যাচ্ছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ