Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জাহাঙ্গিরের সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বাস ফলতাবাসীর

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে ভোট প্রচারের শেষদিন ছিল মঙ্গলবার।

জাহাঙ্গিরের সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বাস ফলতাবাসীর
  • ২০ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে ভোট প্রচারের শেষদিন ছিল মঙ্গলবার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে গোটা ফলতা চষে বেড়াচ্ছেন, তখন আচমকাই সাংবাদিক বৈঠক ডেকে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। আর সেই খবর চাউর হতেই যেন ফলতাবাসীর উচ্ছ্বাসের বাঁধ ভাঙে! কেউ বললেন, ‘মানসম্মান খোয়ানোর ভয়ে আগেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ভালোই করেছেন!’ কারও বক্তব্য, ‘১০ বছরের দাপট শেষ হয়ে গেল! ফলতাবাসী আজ নতুন করে স্বাধীনতা পেল!’

Advertisement

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা। ফল ঘোষণার পর পুলিশের পাহারায় ফলতার বাইরে আশ্রয় নিতে হয়েছিল তাঁকে। পরে নিরাপত্তা বলয়ে তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হলেও পুনর্নির্বাচনের জন্য কোনো প্রচারই করেননি জাহাঙ্গির। অধিকাংশ তৃণমূল নেতাও এলাকাছাড়া। অন্যদিকে, ফলতার সাধারণ মানুষও তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অত্যাচারের অভিযোগে মুখ খুলতে শুরু করেন। অত্যাচার সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ আগে না নিলও এখন গ্রহণ করতে শুরু করে পুলিশ। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই সাঁড়াশি চাপে তিনি সম্ভবত বুঝে যান যে ভোটের ফলাফল কী হতে চলেছে। সেই কারণেই এভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে তিনি কত ভোট পান, তা নিয়ে অবশ্য কৌতূহল থাকবেই। ভোটবাক্সে মত প্রকাশের জন্য কোনো ‘অলিখিত ফতোয়া’ না থাকার প্রভাব ফলাফলেই স্পষ্ট হবে বলে দাবি অনেকের। অধিকাংশ ফলতাবাসী জোর গলায় জানিয়ে দিচ্ছেন, গত এক দশকের সেই পরিস্থিতি আর যাতে না ফিরে আসে, সেটাই নিশ্চিত করতে হবে ভোট দিয়ে। তবে এদিন জাহাঙ্গির দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অত্যাচারের অভিযোগ আনা হচ্ছে, সেগুলি সবই মিথ্যা। 
সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রের অধীন সাতগাছিয়া আসনে জিতে জোড়াফুল শিবিরকে আগেই ধাক্কা দিয়েছে বিজেপি। ফলতাও সেই পথেই যেতে চলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে জাহাঙ্গিরের এই সিদ্ধান্ত ভালোভাবে নেয়নি তৃণমূল। দলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পালাবদলের পর শুধু ফলতাতেই শতাধিক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দিনের আলোয় প্রচুর পার্টি অফিস দখল হয়েছে। কিছু কার্যালয় ভাঙচুর এবং বেশ কয়েকটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে বারবার অভিযোগ করা হলেও নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ করেনি। তাই যাঁরা চাপে পড়ে সরে দাঁড়ালেন, তাঁদের কোনোভাবেই সমর্থন না করার বার্তা দিয়েছে তৃণমূল। সিপিএম জানিয়েছে, এভাবে তৃণমূল আসলে বিজেপিকে ‘ওয়াকওভার’ দিল। কোনো দল যদি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে,  সেটা হলো লাল ঝান্ডার পার্টি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ