নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: বর্ষার শুরুতেই বন্যার আশঙ্কা! টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আরামবাগ মহকুমার নদনদীগুলি ফুলে ফেঁপে উঠেছে। যদিও এখনও জলস্তর বিপদ সীমায় পৌঁছয়নি। কিন্তু বাঁকুড়া অববাহিকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় দ্বারকেশ্বর নদের জল বাড়ছে। সিঁদুরে মেঘ দেখেই বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি সেরে রাখল হুগলি জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবারই হুগলির জেলাশাসক মুক্তা আর্য বৈঠক করেন, তাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেন আরামবাগ মহকুমা ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরাও।
হুগলি জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, আপাতত আতঙ্কের কোনও ব্যাপার নেই। নদীগুলিতে জলস্তর বাড়লেও তেমন আশঙ্কা নেই। কিন্তু বাঁকুড়ার দিকে বেশি বৃষ্টি হওয়ায় আরামবাগ মহকুমার সব ব্লকগুলিকেই সতর্ক করা হয়েছে। নদীর বাঁধ যাতে কোথাও ভেঙে না যায়, সেইজন্য সেচদপ্তরকে দেখতে বলা হয়েছে। তাছাড়া বাসিন্দাদেরও প্রয়োজনে সরাতে ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুমও।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নিম্নচাপের বৃষ্টিতে নদীগুলিতে জল বাড়তে থাকায় ইতিমধ্যেই আরামবাগ মহকুমায় তার আংশিক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর গোঘাটের কামারপুকুর-বদনগঞ্জ রাস্তার উপর সাতবেড়িয়া এলাকায় জল বইতে শুরু করে। তার ফলে রাস্তার দুই প্রান্তে ব্যারিকেড করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। তাতে বিপাকে পড়েছেন গোঘাটের বিস্তীর্ণ এলাকার। এছাড়া পশ্চিম পাড়া পঞ্চায়েত এলাকার একটি রাস্তাতেও খালের জল উঠে যাওয়ায় যাতায়াত বন্ধ রাখে প্রশাসন। এছাড়া খানাকুলের জগন্নাথপুর, কাবিলপুর, উদনা, দুর্গাপুর পশ্চিম ফেরিঘাট এলাকায় একটি বাঁশের সাঁকো ভেসে গিয়েছে। সেগুলি মুন্ডেশ্বরী ও শাখা নদীতে ছিল। সেতু ভেসে যাওয়ায় সেখানে পারাপার বন্ধ হয়েছে। খানাকুলেও থানার তরফে বিভিন্ন জায়গায় মাইকিং করে সতর্ক করা হয়। বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের উঁচু জায়গায় সরানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বাঁকুড়া জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে দ্বারকেশ্বর অববাহিকায় আজ, শুক্রবার সকালের প্রভাব পড়তে পারে। নদীর জলস্তর বিপদসীমা ছুঁয়ে ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেইজন্য গোঘাট ১, আরামবাগ শহর ও ব্লক এলাকা এবং খানাকুলের দু’টি ব্লককে সতর্ক করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই আরামবাগ পুরসভার তরফে সতর্কতামূলক মাইকিং করা হয়েছে। পরে নদী তীরবর্তী কালীপুর সহ শহরের ১২ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা ঘুরে দেখেন পুরসভার চেয়ারম্যান সমীর ভান্ডারী। চেয়ারম্যান বলেন, নদীর তীরে যাঁরা বসবাস করেন, সেইসব বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। এমনকী, দেখা করেও বাসিন্দাদের সতর্ক করেছি। নদীগর্ভে যাঁরা বসবাস করেন তাঁদের উঁচু জায়গায় উঠে আসতেও বলেছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। বিকেলের দিকে অবশ্য বৃষ্টি থামে। তাতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন বাসিন্দারা। কিন্তু ডিভিসি ও বাঁকুড়া দিক থেকে আসা জলের চাপে কী পরিস্থিতি হবে তা নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে রয়েছেন নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। - নিজস্ব চিত্র