নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, বনগাঁ: টানা বৃষ্টিতে চাষের জমিতে জল। ক্ষতি ফসলের। তার জেরে অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধি শাক-সব্জির। শহরের বাজারগুলিতে কাঁচা আনাজের দামে কার্যত আগুন লেগেছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণ সব্জি কিনতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ। সমস্যা শুধু সাধারণ মানুষের নয়। ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে মাথায় হাত কৃষকদেরও। পাশাপাশি পাইকারি বাজারেও সব্জির মূল্য চড়া। ফলে কিনে লোকসানের মুখে খুচরো বিক্রেতারাও। সবমিলিয়ে মূল্যবৃদ্ধির আঁচে সব মহলের কেঁদে ফেলার মতো অবস্থা।
রবিবার সকালে বাজারে গিয়ে প্রায় কেঁদেই ফেলে মধ্যবিত্ত। কাঁচা লঙ্কায় হাত দেওয়া যাচ্ছে না। কলেজ স্ট্রিটের এক সব্জি বিক্রেতা বলেন, ‘১০০ গ্রাম লঙ্কার দাম ২০ টাকা। কিন্তু দশ দিন আগেও ১০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন পাইকারিতেই পাল্লা কিনছি সাড়ে তিনশ থেকে চারশ টাকায়।’ ক্রেতাদের বক্তব্য, ‘বেগুন একশ টাকা কিলো।’ গড়িয়া বাজারে অর্ণব মজুমদার বললেন, ‘দু’সপ্তাহ আগেও সব্জির দাম এত ছিল না। বেগুন বলছে ১২০ টাকা কেজি।’ শুধু তো বেগুন নয়, পটল, টোম্যাটো, আলু, পেঁয়াজেরও একই দশা। বিক্রেতাকে সবাই বাধ্য হয়ে বলছেন, ‘অল্প করে দিন। যা দাম!’ শিয়ালদহের এক সব্জি বিক্রেতা জানালেন, ‘বৃষ্টির জন্য চাষের জমি জলের তলায়। দাম ওই কারণেই বাড়ছে।’ পটলের দাম সাধারণত নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তের আয়ত্তের মধ্যে থাকে। গরিবের ভরসা সেই পটল পর্যন্ত চালিয়ে খেলছে এখন। কিছুদিন আগে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি ছিল। সে দর চড়চড় করে বেড়ে এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকা। সমানে টক্কর দিচ্ছে ঝিঙে, টোম্যাটো, বিনস। রবিবার বহু বাঙালির বাড়িতে মাংস রান্না হয়। সে রান্নার অত্যাবশকীয় উপাদান টোম্যাটো কিনতে কালঘাম ছুটেছে সাধারণের।
কলকাতা বা শহরতলি শুধু নয়। জেলার বাজারগুলিতেও সব্জির দাম চড়া। বাবুলাল সাহা নামে বনগাঁর এক সব্জি বিক্রেতা বললেন, ‘সব্জির দাম আরও বাড়বে, দেখে নিন।’ বনগাঁ নিউমার্কেটের এক সব্জি বিক্রেতার বক্তব্য, ‘অনেকেই দাম শুনে সব্জির বদলে ডিম, সোয়াবিন এসব কিনছেন।’ এই বাজারে বিনস ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিকোচ্ছে। ২০ টাকার ঢ্যাঁড়স হয়েছে ৪০ টাকা। এর পাশাপাশি বেড়েছে ঠাকুর পুজোর ফুলের দামও। সবমিলিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা সকলেরই প্রাণ ওষ্ঠাগত।