নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক ধারা বদলের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাষ্ট্রবাদ ও বাংলার মূল ভাবধারার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে আধুনিক পাঠ্যক্রমে আগামী প্রজন্মকে শিক্ষিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনে আরএসএস-এর শাখা সংগঠন বিদ্যাভারতীর অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন তিনি। সেখানে শিক্ষা ইস্যুতে বাম ও তৃণমূল সরকারকে কার্যত তুলোধোনা করেন ভবানীপুরের বিজেপি বিধায়ক। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের কথায়, কমিউনিস্টরা যখন রাজত্ব করেছে পড়ুয়াদের ইংরেজি ও কম্পিউটার থেকে বঞ্চিত করেছে। বিগত সরকার (তৃণমূল) গত ১০ বছরে যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিল, তা আর কিছুদিন চললে আমাদের সংস্কার, পরম্পরা, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ হারিয়ে যাওয়ার শেষ প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে সিলেবাসে ভয়ঙ্কর পরিবর্তন করা হয়েছিল। ভাষার বিকৃতি করে মাকে আম্মা, আকাশকে আসমান করা হয়েছিল। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কেবলমাত্র মুসলমান পড়ুয়াদের স্কলারশিপ দেওয়া হত। সঠিক সময়ে বাংলার মানুষ পরিবর্তন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্কুল-কলেজে ফের ব্রতচারী ফিরিয়ে আনা হবে। আগামী একবছরের মধ্যে বিদ্যাভারতীর বিদ্যামন্দির স্কুলের সংখ্যা বাংলায় এক হাজারে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্র নেওয়া হোক। বিশিষ্ট শিল্পপতিদের সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতে খরচ (সিএসআর) এই খাতে দেওয়ার আবেদন জানান। শুভেন্দুবাবুর আরজিতে সাড়া দিয়ে দর্শকাসনে বসা একাধিক শিল্পপতি অনুষ্ঠানের মাঝেই স্কুল গড়তে কয়েক কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অন্যদিকে, রাজারহাটে বিদ্যাভারতীকে বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়তে রাজ্য সরকার জমি দেবে বলেও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।



