নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুক্রবার দোল পূর্ণিমা। রঙের এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মঠ‑মন্দিরে বিশেষ পুজো হয়। পুজোয় দেবতাকে চিরাচরিত প্রথা মেনে দেওয়া হয় মঠ ও ফুট কড়াই। বুধবার কলকাতার বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হয়েছে সাদা, হলুদ, গোলাপী মঠ। সঙ্গে ফুট কড়াইও বিক্রি হয়েছে সমানতালে। দাম, ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। এখন প্যাকেটবন্দি মঠ‑ফুট কড়াইয়ের চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। ছোট আকারের প্যাকেট ১০ থেকে ১৫ টাকা দাম।
দোল পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন মন্দির বিশেষ করে রাধা‑কৃষ্ণের মন্দিরে বাতাসা লুট অনুষ্ঠান হয়। ফলে চিড়ে-মুড়ি-মুড়কির দোকানে বাতাসা বিক্রিও হয়েছে প্রচুর। শ্যামবাজার, হাতিবাগান, শোভাবাজার, মানিকতলা, বাগবাজার, গড়িয়াহাট, বাঘাযতীন, সল্টলেক, নিউটাউন, বাগুইআটি, বরানগর, সোদপুর প্রভৃতি এলাকায় দেখা গিয়েছে, রং‑বেরঙের আবিরের পাশাপাশি ডাঁই করে রাখা খই, মুড়কি, চিঁড়ে, মঠ ও ফুট কড়াই। বাগবাজারের বাসিন্দা সুচন্দ্রা ঘটক শ্যামবাজারের একটি দোকান থেকে কিনলেন মঠ, ফুট কড়াই ও ফল। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই দোলের দিন বাড়ির গৃহদেবতা গোপালের পিতলের মূর্তিকে সাজিয়ে তোলা হয়। বিশেষ পুজো হয়। হয় নারায়ণ পুজোও। সেই উপলক্ষ্যে বাড়িতে লোকজন আসেন। তাই বেশি পরিমাণে মঠ‑ফুট কড়াই কিনতে হয়।’ বিডন স্ট্রিটের বাসিন্দা সজল চক্রবর্তী বলেন, ‘দোল উপলক্ষ্যে বাড়িতে ঠাকুরকে সিন্নি দেওয়া হয়। তার সঙ্গে অবশ্যই দিতে হয় মঠ‑ফুট কড়াই। এবার আমাদের বাড়ির পুজো পড়ছে ১৫ বছরে। তাই ঘটা করে হবে। পাঁচ কেজি করে মঠ ও ফুট কড়াই এবং হরির লুটের জন্য দশ কেজি বাতাসা কিনেছি।’ নিজস্ব চিত্র