Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রতি কেজির দাম ৮০০ টাকা, হাতির ভয় উপেক্ষা করেই গভীর রাত থেকে বাঁকুড়ার জঙ্গলে কাড়ান ছাতু সংগ্রহের ধুম

পুষ্টিগুণে ভরপুর। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা, কিডনির রোগ, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে। এমনকী ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কমিয়ে দেয়।

প্রতি কেজির দাম ৮০০ টাকা, হাতির ভয় উপেক্ষা করেই গভীর রাত থেকে বাঁকুড়ার জঙ্গলে কাড়ান ছাতু সংগ্রহের ধুম
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৬:০৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: পুষ্টিগুণে ভরপুর। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা, কিডনির রোগ, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে। এমনকী ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কমিয়ে দেয়। বাঁকুড়ার জঙ্গলে ফোটা কাড়ান ছাতুর কামাল এমনটাই বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। দামও পাওয়া যায় তাই ভালো। সেই জন্য ঝুঁকি নিয়েই বাঁকুড়ার জঙ্গল থেকে কাড়ান ছাতু তুলছেন বাসিন্দারা। হাতি ও অন্যান্য বন্য পশুর ভয়কে উপেক্ষা করেই রাত থেকে সকাল পর্যন্ত জঙ্গলে টর্চ জেলে ছাতু তোলা হচ্ছে। ফলে যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে পুলিস ও বনদপ্তর আশঙ্কা করছে। 

Advertisement

বর্তমানে বাঁকুড়া উত্তর ও পাঞ্চেত বনবিভাগ এলাকায় যথাক্রমে ৬ ও ২২টি হাতি রয়েছে। হাতিগুলি রাতে খাবারের খোঁজে বের হয়। তাছাড়া জঙ্গলে হায়না, নেকড়ে, বন শুয়োরের মতো হিংস্র পশুও রাতের অন্ধকারে বিচরণ করে। বাঁকুড়া উত্তরের ডিএফও দেবাশিস মহিমাপ্রসাদ প্রধান বলেন, বিনা অনুমতিতে জঙ্গলের কোনও সামগ্রী বাজারজাত করা যায় না। রাতে জঙ্গলে প্রবেশ করলে বন্যপশুর আক্রমণে হতাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আমরা বিষয়টি নিয়ে সকলকে সতর্ক করছি।
বর্তমানে বাঁকুড়ায় কাড়ান ছাতুর দাম খাসির মাংসকেও হার মানাচ্ছে। বাঁকুড়া শহরে বর্তমানে প্রতি কেজি খাসির মাংসের দাম ৭০০ টাকার আশপাশে রয়েছে। অথচ কাড়ান ছাতু বা জঙ্গলের মাটিতে ফোটা মাশরুমের দাম প্রায় ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝেমধ্যে দাম হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বাঁকুড়া শহরের লালবাজার এলাকায় সবচেয়ে বেশি কাড়ান ছাতু বিক্রি হয়। বড়জোড়া, সোনামুখী, তালডাংরা সহ অন্যান্য ব্লক এলাকা থেকে ছাতু বাঁকুড়া শহরে এনে বিক্রি করা হচ্ছে।
বেলিয়াতোড়ের সীমা নাগ, বিশু রক্ষিত বলেন, আমরা ঝুঁকি নিয়ে গভীর রাত থেকে জঙ্গলে ছাতু সংগ্রহ করি। তবে বেশি দাম পাই না। মধ্যসত্ত্বভোগী ও বিক্রেতারা লাভের গুড় খেয়ে নেয়। সকালে ছাতু ফুটে যায়। কুঁড়ি ছাতুর দাম বেশি পাওয়া যায়। সেই কারণে বাধ্য হয়ে রাতে ছাতু তুলতে হয়। 
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কাড়ান ছাতু মাশরুমের একটি প্রজাতি। ওই ছত্রাক জাতীয় উদ্ভিদ খাওয়ার যোগ্য। প্রোটিন ও অ্যামাইনো অ্যাসিডে ভরপুর ওই ছাতু স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী। কাড়ান ছাতুতে নানা ধরনের ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ রয়েছে। ফলে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
বাঁকুড়ার আবহাওয়া কাড়ান ছাতু জন্মানোর পক্ষে আদর্শ। ফলে পুজোর মুখে জেলায় প্রচুর পরিমাণে তা পাওয়া যায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কাড়ান ছাতু শাল, মহুলের জঙ্গলে বেশি পাওয়া যায়। বসন্তে জঙ্গলের পর্ণমোচী উদ্ভিদের পাতা ঝড়ে যায়। গ্রীষ্ম ও বর্ষায় তা পচে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। শরতে সেই মাটিতেই কাড়ান ছাতুর জন্ম হয়। অষ্টমী তিথিতে ফোটে বলে একে অনেকে অষ্টমী ছাতু বলেন। জন্মাষ্টমী থেকে বাঁকুড়ার বাজারে কাড়ান ছাতুর আমদানি হয়। তারপর থেকে দুর্গাপুজোর অষ্টমী পর্যন্ত ছাতু পাওয়া যায়। দুর্গা পুজোর মুখে বেশি করে ছাতু পাওয়া যায় বলে অনেক জায়গায় আবার ‘দুগ্গা ছাতু’ বলা হয়।
সোমবার বাঁকুড়া শহরের লালাবাজার এলাকার সানঘাটে রাস্তার দু’পাশে রাশি রাশি ছাতু ঢেলে বিক্রির চিত্র ধরা পড়ে। গুণগত মান অনুযায়ী ছাতু ৮০০-১০০০ টাকা দামে বিক্রি হয়। কুঁড়ি ছাতুর দাম তুলনায় বেশি থাকে। ছাতু বিক্রেতা শ্যামল পাল বলেন, বেলিয়াতোড় এলাকার জঙ্গল থেকে স্থানীয়রা ছাতু তুলে আনেন। তাঁদের কাছ থেকে আমরা কিনে নিই। পরে তা শহরে বিক্রি করা হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ