নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বছরের পর বছর ধরে ত্রিবেণীর যানজটে নাকাল ব্যবসায়ীরা। যানজটের কারণে তিতিবিরক্ত বাসিন্দারা। তাঁরা অনেকেই বাজারে আসা বন্ধ করছেন। ফলে ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় এসে পৌঁছেছে যে, অনেক দোকানি ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথাও ভাবতে শুরু করেছেন। অভিযোগ, পুরসভা থেকে প্রশাসন— কেউই ত্রিবেণীর যানজট সামাল দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে না। যে কারণে বাজার থেকে মুখ ফিরিয়েছে আম জনতা। মাছি তাড়ানোর দশা হয়েছে ব্যবসায়ীদের। ত্রিবেণী বাজারে বর্তমানে মাছ কিনতেও ভিড় জমাচ্ছেন না স্থানীয়রা। অতীতে মহানাদ, সপ্তগ্রাম থেকেও ক্রেতারা আসতেন এখানে। সেসব পাট বহুদিন আগেই চুকে গিয়েছে। ফলে, ত্রিবেণীতে বিকল্প সড়কের প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠে আসছে।
সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন বাঁশবেড়িয়া শহরের তৃণমূল নেতা তথা কাউন্সিলার অমিত ঘোষ। তিনি বলেন, আমরা কুন্তী নদীর পাশ দিয়ে বিকল্প সড়কের কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু সেখানে রেলের জমি রয়েছে। রেলদপ্তর অনুমতি না দিলে ওই জমিতে কাজ করা কঠিন। পুর চেয়ারম্যান আদিত্য নিয়োগী এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গেও কথা বলেছেন। কিন্তু সমাধান সূত্র মেলেনি। ব্যবসার পরিস্থিতি খারাপ, সন্দেহ নেই। একটি প্রাচীন বাজার উঠে যাওয়া স্থানীয় অর্থনীতির জন্য খুবই ক্ষতিকারক। বাঁশবেড়িয়া স্টেশনের এক কর্তা বলেন, জমি হস্তান্তর বা রেলের জমিতে নির্মাণের বিষয়ে আমাদের কোনও ভূমিকা নেই। ত্রিবেণী বাজারের ব্যবসায়ী বাচ্চু নাথ বলেন, এক সময়ে বাঁশবেড়িয়ার মধ্যে বিখ্যাত বাজার ছিল এই ত্রিবেণী বাজার। মগরা, কুন্তীঘাটের মতো এলাকা থেকেও ক্রেতারা আসতেন। সব্জি থেকে জামা-কাপড়— ত্রিবেণী বাজারই ছিল তাঁদের একমাত্র ভরসা। একমাত্র যানজট আমাদের কপাল পুড়িয়ে দিয়েছে। নানা কারণে বাজার এলাকায় যানজট লেগেই থাকে। মানুষ বিরক্ত হয়ে আর এই পথে আসেন না। পরিস্থিতি এমন হয় যে, উৎসবের ভরা মরশুমেও মাছি তাড়াতে হয় আমাদের। যানজট সমস্যা না মিটলে ক্রেতারা আর এমুখো হবেন না। তাই ব্যবসা গুটিয়ে দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। বছরের পর বছর ধরে প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে কিছু কাজ হচ্ছে না।
একদিকে ত্রিবেণী রেল গেট, অন্যদিকে শহরের রাস্তা অপরিসর হওয়ায় যানজট তৈরি হয় বাজার এলাকায়। এই পথ দিয়েই যেতে হয় ত্রিবেণী শ্মশানঘাটে। সেখানে শুধু হুগলি জেলা নয়, আশপাশের জেলা থেকেও মৃতদেহ নিয়ে আসা হয় সৎকারের জন্য। একারণে যানজট আরও তীব্র হয়। প্রতিদিন ত্রিবেণী বাজার থেকে মনসাতলা পর্যন্ত যানজটের জন্য মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ত্রিবেণী বাজারের ব্যবসায়ীদের উপরে। পরিস্থিতির জেরেই ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন। যানজটের সমাধানে কেউই পথ দেখাতে পারছেন না। নিজস্ব চিত্র