নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে বাংলায় ফের তৃণমূলই ক্ষমতায় আসছে। তা প্রত্যয়ীর সুরে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী, ২৭ ফেব্রুয়ারি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলের সভায় মমতার কণ্ঠে উঠে আসে, আগামী বছর রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ২১৫ আসন পারের কথা। এই সূত্রেই এবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিজেপিকে কড়া বার্তা দিয়ে মমতা দৃপ্ত কণ্ঠে জানিয়ে দিলেন, মানুষ তৈরি হচ্ছে বিজেপিকে যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্য।
আগামী বছর এপ্রিল-মে মাস নাগাদ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু এক বছর আগে থেকেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ বইতে শুরু করেছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল পুরোদমে ভোট প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে। ভুয়ো ভোটার খোঁজার জন্য জেলায় জেলায় চলছে স্ক্রুটিনির কাজ। ইতিমধ্যে দলের জনপ্রতিনিধি ও দলীয় পদাধিকারীদের ভোটমুখী সংগঠন কেন্দ্রিক একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। গোটা তৃণমূল পরিবার যখন ভোটের ময়দানে নেমে পড়েছে, তখন বিজেপির বিরুদ্ধে ঝাঁঝালো আক্রমণ জারি রাখলেন মমতা। বুধবার বিধানসভায় স্বাস্থ্যদপ্তরের বাজেটের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কী কী উন্নয়ন হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য পেশ করেন তিনি। যার সূত্র ধরেই বিজেপির বিরুদ্ধে মমতার তোপ, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী সহ একাধিক প্রকল্প আজ মডেল। রাজ্য সরকার বাংলার মানুষের পাশে রয়েছে। আর বাংলার মানুষও তৃণমূলের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। মানুষ তৈরি হচ্ছেন বিজেপিকে যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্য।
ভোট এলেই বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করে, এমন অভিযোগ এর আগেও উঠেছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করবে বলে এখন থেকেই ইঙ্গিত পেয়ে সুর চড়িয়েছে তৃণমূল। সেখানে রাজ্যের শাসক দলের স্পষ্ট বক্তব্য, আমরা জাত-পাতের রাজনীতি করি না। মমতার কথায়, বিজেপির আমদানি করা নিজস্ব ধর্ম। ওরা খুন, ধ্বংসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। কিন্তু আমরা তা করি না। আমরা বিশ্বাস করি, শান্তির ললিত বাণীতে। ওরা অন্যকে সম্মান জানাতে গিয়ে নিজের মাতৃভূমি বাংলাকে অসম্মান করছে।
বঙ্গে ভোটের উত্তাপ শুরু হতেই ধর্মকে হাতিয়ার করে বিজেপিকে রাজনীতির ময়দানে নামতে দেখা গিয়েছে। যে প্রসঙ্গে মমতার বক্তব্য, কেউ বলছে হিন্দু-সিন্ধু ভাই ভাই। কিন্তু বিহার, ত্রিপুরা, উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে যাঁরা বাংলায় এসে চিকিৎসা করাচ্ছেন, তাঁদের খোঁজ (বিজেপি) রাখে না। অন্য রাজ্যের মানুষ বাংলায় এসে বিনা পয়সায় চিকিৎসা করিয়ে যাচ্ছেন। তাই কোনও রাজনৈতিক দলের মেডেল আমরা চাই না। আমরা সকলকে নিয়ে চলতে চাই।