Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পায়ুদ্বারে হাওয়া-পাইপ, ইয়ার্কির  বলি বাউড়িয়া জুটমিলের শ্রমিক

পায়ুদ্বারে হাওয়া-পাইপ, ইয়ার্কির  বলি বাউড়িয়া জুটমিলের শ্রমিক
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: মাত্রাছাড়া ইয়ার্কির বলি হলেন এক জুটমিল শ্রমিক। রবিবার প্রথম শিফটের কাজ শেষ হয়েছে তখন। টিফিনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মিলের পাট ঘরের শ্রমিক সবের মল্লিক (৫৩)। সেই সময় এক সহকর্মী ইয়ার্কির ছলে তাঁর পায়ুদ্বারে পাইপ দিয়ে হাওয়া ঢুকিয়ে দিলে নিমেষে ফুলে ওঠে পেট। অন্যান্য কর্মীরা তৎক্ষণাৎ ওই শ্রমিককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উলুবেড়িয়া ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে নিয়ে যাওয়া হয় মানিকতলার ইএসআই হাসপাতালে। সেখানেই মারা যান সবের মল্লিক। ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার বাউড়িয়া জুটমিলে।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বাউড়িয়া থানার চকমধু জলাপাড়ায় বাড়ি সবের মল্লিকের। বাড়ি থেকে যখন কাজে বেরিয়েছিলেন, তখন দিব্যি সুস্থ, সবল ছিলেন। রবিবার প্রথম শিফটে স্বাভাবিকভাবে কাজও করেছেন। টিফিনের প্রস্তুতি যখন নিচ্ছিলেন, তখনই ঘটে এই কাণ্ড। যে হাওয়া মেশিন দিয়ে জুটমিলের যন্ত্রাংশ সাফ করা হয়, মজা করতে গিয়ে সেই পাইপই ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল সবের মল্লিকের পায়ুদ্বারে। হাওয়া যত ঢুকেছে, ততই ফুলে উঠেছে শরীর। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মিল কর্তৃপক্ষ বাউড়িয়া থানায় অভিযোগ জানিয়েছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
মৃত জুটমিল শ্রমিকের স্ত্রী মামুদা বেগমের অভিযোগ, আমার স্বামী একটু নরম প্রকৃতির ছিলেন। যে কারণে সহকর্মীরা জুটমিলের মধ্যেই আমার স্বামীকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতেন। রবিবার তেমনই ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে আগেও মিল কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ জানানো হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাকে আমল দেয়নি। যদি পদক্ষেপ করত, তাহলে হয়তো এই চরম পরিণতি হতো না। এই পরিস্থিতিতে মেয়ে কীভাবে মাধ্যমিকের বাকি পরীক্ষা দেবে, তা নিয়ে চিন্তায় মামুদা বেগম। 
ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব জুট টেক্সটাইল ওয়ার্কার্সের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আলি লস্কর বলেন, মজা করতে গিয়ে এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে কোনও পরিবারের ক্ষতি হয়। আমরা চাই, আইন আইনের পথে চলুক, দোষী শাস্তি পাক। এ প্রসঙ্গে হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিসের সুপার সুবিমল পাল বলেন, এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনও অভিযোগ জানানো হয়নি। তবে পুলিস তদন্ত শুরু করেছে।
নিছক মজার জন্য পায়ুদ্বারে হাওয়া ভরার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এরাজ্যে আগেও এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন চার-পাঁচজন। ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর দেগঙ্গায় খেলার ছলে এক কিশোর আরেক বন্ধুর পায়ুদ্বারে হাওয়া ভরে দিয়েছিল। সাইকেলের চাকায় বা ফুটবলে হাওয়া দিলে যেমন ফুলে ওঠে, সেভাবেই কারখানার পাম্প দিয়ে হাওয়া দেওয়া হয়েছিল পায়ুদ্বারে। পরিণতি, মৃত্যু হয় রায়হানউদ্দিনের (১৪)। ২০২১ সালের নভেম্বরে রহমত আলির মৃত্যুও হয়েছিল একই কারণে। চাঁপদানির নর্থব্রুক জটমিলের ওয়েল্ডিং বিভাগে কাজ করতেন তিনি। বছর একুশের ওই শ্রমিকের পায়ুতেও হাওয়া-পাইপের মুখ গুঁজে দিয়েছিল আরেক সহকর্মী। একইভাবে কলকাতার মানিকতলা ও সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ে মৃত্যু হয়েছিল দু’জনের।    
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ