লন্ডন: জেতা দলের ট্রফি চুরি! বিশ্বকাপ না খেলার জন্য অন্য দেশকে উসকানি— এসবে পাকিস্তান সিদ্ধহস্ত। তবে ২২ গজে খেলতে নামলে সব জারিজুরি উধাও। বেরিয়ে পড়ে বাবর আজমদের কঙ্কালসার চেহারা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে যেমন হয়েছে! পাক ব্রিগেডকে প্রথম দুই টেস্টে চুনকাম করে সিরিজ নিশ্চিত করেছে জো রুটের দল। আর এই ভরাডুবির পর পিসিবি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বেনজির। নিয়মরক্ষার শেষ টেস্টের আগে দলের সাতজন ক্রিকেটারকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নকভির বোর্ডের। পাশাপাশি ছাঁটাই দলের প্রধান কোচ সরফরাজ খান, বোলিং কোচ উমর গুলও। পরিবর্তে যে সাতজন প্লেয়ারের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে পাঁচজনের এখনও টেস্টে অভিষেকই হয়নি। সত্যিই বিচিত্র একটা দেশ। পাকিস্তান ক্রিকেটে রীতিমতো ডামাডোল অবস্থা চলছে।
নাটক এখনও শেষ হয়নি। এমন সব ঘটনা দেখে পাকিস্তানের নির্বাচক প্রধান মিসবা উল হক ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সাতজন ক্রিকেটারের দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নির্বাচক প্রধানকে জানানোই হয়নি। তাই দায়িত্ব ছাড়লেন তিনি। তাতে অবশ্য বোর্ডের কিছু এসে যায় না। কারণ, পাক বোর্ডের প্রধান নকভি পাকিস্তানের মন্ত্রীও। তাঁর বিরুদ্ধে কে আর মুখ খুলবে?
দেশে ফেরত পাঠানো পাকিস্তানের সাত ক্রিকেটার হলেন যথাক্রমে মহম্মদ রিজওয়ান, ইমাম উল হক, সলমান আঘা, আলি উসমান, আমের জামাল, আওয়াইস জাফর ও খুররম শাহজাদ। এই তালিকায় আলি উসমানের নাম দেখে অনেকে অবাক। হেডিংলেতে দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচটি উইকেট নিয়ে চমক দিয়েছিলেন তিনি। তারপরও বাদ পড়তে হল! কোচ সরফরাজদের দেশে ফিরিয়ে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের কোচ মাইক হেসেনকে ইংল্যান্ডে উড়িয়ে আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বার্মিংহামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্টে নামবেন বাবর আজমরা। তার আগে পাকিস্তান ক্রিকেটকে নিয়ে হাসির ফোয়ারা চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেভিন পিটারসেন লিখেছেন, ‘পাকিস্তান এতজন ক্রিকেটারকে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে! এই গ্রহে বসে আমি কী পড়ছি! না, এটা সত্যি হতে পারে না।’ শোয়েব মালিক আবার বলেছেন, ‘ক্রিকেটারদের এভাবে অসম্মান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ পাকিস্তানের প্রাক্তন কোচ মিকি আর্থারের কথায়, ‘পিসিবি’র সিদ্ধান্ত হাস্যকর।’