নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: সমাবর্তনের আগে সাসপেন্ড হলেন কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এক অধ্যাপক। যদিও ওই অধ্যাপক কার্তিক দাসের পালটা অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে প্রয়োজনীয় সময় দেয়নি। যদিও এনিয়ে প্রকাশ্যে কোনোরকম মন্তব্য করতে নারাজ কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে এড়িয়ে গিয়েছেন পদস্থ কর্তারা।
ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র ইস্যুতে বেশকিছু দিন ধরেই চর্চা চলছিল পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে। এনিয়ে প্রকাশ্যেই সরব হতে দেখা গিয়েছিল বিজেপির তপশিলি মোর্চাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ওই অধ্যাপকের জাতিগত শংসাপত্র সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছিল কোচবিহার সদর মহকুমা শাসকের কাছে। সব যাচাই করে ৩০ জুলাই এসডিও’র তরফে অধ্যাপকের জাতিগত শংসাপত্র বাতিল করা হয়। একদিন পর, ৩১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অধ্যাপকের কাছে জবাব তলব করে।
যদিও অধ্যাপক কার্তিক দাস বলেন, পশ্চিমবঙ্গেই যে আমার জন্ম, আমি তার বৈধ নথি দেখিয়েছি। কিন্তু, আমি যে পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছি, তারজন্য ১৯৫১ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে এ রাজ্যে থাকা জমির নথি দেখাতে পারিনি। মহকুমা শাসক আমার জাতিগত শংসাপত্র বাতিল করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ও আমাকে খুব একটা সময় দেয়নি। অল্প সময়ের মধ্যেই শোকজ এবং সাসপেন্ড করা হল।
অধ্যাপকের জাতিগত শংসাপত্র ভুয়ো দাবি করে আন্দোলনে নেমেছিল বিজেপির তপশিলি মোর্চা। সংগঠনের জেলা সভাপতি রাজকুমার কার্জি বলেন, অধ্যাপক কার্তিক দাস ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিতে যোগ দেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাসপেন্ড করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে বিজেপির এসসি মোর্চা চুপ করে বসে থাকবে না।
পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, মহকুমা শাসক অধ্যাপক দাসের জাতিগত শংসাপত্র বাতিল করার পর নিয়ম মেনে অভিযুক্তের কাছ থেকে জবাব তলব করা হয়। কিন্তু, নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও অধ্যাপকের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কোনো সন্তোষজনক উত্তর পায়নি। তাই কর্তৃপক্ষ নিয়ম মেনে ৩১ আগস্ট তাঁকে সাসপেন্ড করে। গোটা বিষয়টি নিয়ে অধ্যাপক কার্তিক দাস আইনের দ্বারস্থ হবেন বলে বুধবার জানিয়েছেন। • ফাইল চিত্র।