Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গ্রাহকের ডিভাইসে ‘পেমেন্ট সাকসেসফুল’ শোনা গেলেও টাকা ঢুকছে না অ্যাকাউন্টে!

রোজকার খুচরোর ঝামেলা চুকিয়েছে ইউপিআই বা ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম। মুদি দোকান থেকে ফুচকাওয়ালা—প্রায় সব ছোটখাটো ব্যবসায়ীদের কাছেই রয়েছে স্পিকার ডিভাইস।

গ্রাহকের ডিভাইসে ‘পেমেন্ট সাকসেসফুল’ শোনা গেলেও টাকা ঢুকছে না অ্যাকাউন্টে!
  • ১০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: রোজকার খুচরোর ঝামেলা চুকিয়েছে ইউপিআই বা ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম। মুদি দোকান থেকে ফুচকাওয়ালা—প্রায় সব ছোটখাটো ব্যবসায়ীদের কাছেই রয়েছে স্পিকার ডিভাইস। ক্রেতা কিউআর কোড স্ক্যান করে টাকা দিলেই বেজে ওঠে স্পিকার—‘আপনার পেমেন্ট সাকসেসফুল।’ কত টাকা গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ঢুকল, তাও শোনা যায় স্পিকারে। সেই আওয়াজ এবার নকল করছে হ্যাকাররা। টাকা ঢোকার আওয়াজ গ্রাহকের স্পিকারে শোনা গেলেও আদতে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে না! নয়া সাইবার প্রতারণায় ঘুম উড়েছে দেশজুড়ে। এই সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ দেশের বিভিন্ন তদন্তকারী এজেন্সিগুলির কাছে জমা পড়েছে।

Advertisement

দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান, দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে বিপুল সংখ্যায় একই অভিযোগ সামনে এসেছে সম্প্রতি। পশ্চিমবঙ্গেও কয়েকটি অভিযোগ হয়েছে। যদিও খাস কলকাতায় ডিজিটাল পেমেন্ট সংক্রান্ত এই ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ এখনও পর্যন্ত জমা পড়েনি। কীভাবে চলছে প্রতারণা? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, টেলিগ্রাম অ্যাপে একটি নয়া ‘ইউপিআই পেমেন্ট চ্যানেল’ চলছে রমরমিয়ে। সেখানেই রয়েছে বিভিন্ন ইউপিআই অ্যাপের হুবহু নকল ইন্টারফেস। সেই চ্যানেলের মাধ্যমে পেমেন্ট কিউআর কোড স্ক্যান করে টাকা দিলে প্রেরকের মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে উঠবে ‘পেমেন্ট সাকসেসফুল’ অ্যালার্ট। সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকের ডিভাইসে বেজে উঠবে একই টাকার অঙ্কের কনফার্মেশন মেসেজ। স্বাভাবিকভাবেই গ্রাহক নিজের অ্যাকাউন্টে টাকা ক্রেডিট হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছেন। দিনের শেষে ব্যবসায়ী যখন ডিজিটাল লেনদেনের হিসেব মেলাচ্ছেন, তখনই দেখা যাচ্ছে বিস্তর গোলমাল। 
দিল্লি পুলিস সূত্রের খবর, এই সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে নেমে দেখা গিয়েছে গ্রাহকের কিউআর কোডটি ওই টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে স্ক্যান করলেই হ্যাক হয়ে যাচ্ছে স্পিকার ডিভাইসটি। তাতে শুধুমাত্র টাকার অঙ্ক ক্রেডিটের শব্দই শোনা যাচ্ছে। পুলিস সূত্রের দাবি, টেলিগ্রাম অ্যাপের এই চ্যানেলটি বানিয়েছে একটি সাইবার হ্যাকার গ্যাং। তার সদস্যরাই গ্রুপের অ্যাডমিন। সেই চ্যানেলে যুক্ত হওয়ার জন্য টেলিগ্রামেই দেদার প্রচার করা হচ্ছে। তবে বিনাপয়সায় সেই চ্যানেলে যুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। চ্যানেলের মেম্বারশিপ নিতে হলে গুনতে হবে টাকা। কোনও নির্দিষ্ট অঙ্ক নয়। ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠছে ‘মেম্বারশিপ’। ইতিমধ্যেই, টেলিগ্রামকে এই বিষয়টি নিয়ে চিঠি লিখেছে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিস। এমনকী, মাদ্রাজ হাইকোর্টের তরফেও টেলিগ্রামকে মেইল করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, অনতিবিলম্বে এই ধরনের ‘ইউপিআই পেমেন্ট চ্যানেল’ নিষিদ্ধ করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ