সংবাদদাতা, বারুইপুর: চারতলা ভবন বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের রাত্রিনিবাসের। আছে ৯০টি বেড। কিন্তু থাকছেন না রোগীদের পরিবারের লোকেরা। বরং সেখানে থাকেন হাসপাতালের নার্সিং স্টাফরা। অভিযোগ, এখানে থাকতে হলে ভাড়া দিতে হয় ৩০ টাকা। কিন্তু তা দিতে অরাজি রোগীর পরিবারের লোকেরা। তাই কষ্ট করেও তাঁরা রাত কাটান বারুইপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের রোগী প্রতীক্ষালয়ে। এদিকে, রাত্রিনিবাসের তিনতলা, চারতলাতে খালি বেড পড়ে থাকছে দীর্ঘদিন। শৌচালয় থেকে বেসিন নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।
এই প্রসঙ্গে হাসপাতালের সুপার ডাঃ ধীরাজ রায় বলেন, কী অসুবিধা আছে, সেটা খোঁজ নিয়ে দেখব। অন্যদিকে, বারুইপুর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান গৌতম দাস বলেন, পরিষেবা ভালো করার জন্য এই টাকা নেওয়া হয়। নার্সিং স্টাফ থাকলেও পাশাপাশি রোগীর পরিবারের লোকেরাও থাকেন।
২০১৭ সালের ১৩ জুন হাসপাতাল চত্বরের ভিতরে এই রাত্রিনিবাসের উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন আবাসন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়। ছিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বারুইপুর পুরসভা এই রাত্রিনিবাসের পরিচালনার দায়িত্বে। এর একতলায় রয়েছে ক্যান্টিন, অফিস রুম, আলোচনা কক্ষ, নিরাপত্তাকর্মীদের থাকার ঘর। দোতলা, তিনতলা, চারতলায় মহিলা ও পুরুষদের আলাদা থাকার জায়গা, শৌচালয় সবই আছে। কিন্তু কয়েক মাস ধরেই এই রাত্রিনিবাসে রোগীর পরিবারের লোকেরা থাকছেন না। এই ব্যাপারে বারংবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর আত্মীয়দের বলেছে। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।
এই হাসপাতালের উপর বারুইপুর, জয়নগর সহ সুন্দরবনের কুলতলি, মৈপীঠ, সোনারপুর এমনকী, মগরাহাট, বিষ্ণুপুর এলাকার মানুষজন নির্ভরশীল। কুলতলি থেকে আসা এক রোগীর আত্মীয় সঞ্জয় হালদার বলেন, রাত্রিনিবাস আছে ঠিকই। কিন্তু থাকতে হলে ৩০ টাকা দিতে হয়। তাই মশার কামড় সহ্য করেই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রাতে থেকে যাই। একই কথা জয়নগরের নিমাই ঘোষের। তিনি বলেন, এক রাত কাটাতে ভাড়াটা বেশি। শুধু থাকা নয়, ক্যান্টিনের খাবারের রেটও বেশি। তাই অসুবিধা নিয়েও অন্য জায়গায় থাকতে হয়। বারুইপুরের বাসিন্দা কাজল হালদার বলেন, পুরসভা যদি এই ভাড়া কিছুটা কমিয়ে দেয়, তাহলে খুব ভালো হয়।