


সংবাদদাতা, বর্ধমান: ভোটের আগে থেকেই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা হচ্ছিল না বলে অভিযোগ উঠছিল। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরেও সেই অভিযোগ জমা পড়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খণ্ডঘোষে ভোটের প্রচারে এসে তা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। যে সব নার্সিংহোম ‘দুষ্টুমি’ করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু, রাজ্যে তৃণমূল সরকারকে সরিয়ে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পালাবদলের পরেও এখন স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে আতান্তরে পড়েছেন অসংখ্য রোগী। জেলার মাঝারি বা ছোটো নার্সিংহোম থেকে শহরের বড় বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও জানে না যে, ওই প্রকল্পে পরিষেবা দিলে টাকা আদৌ মিলবে কি না। তাই সরকারিভাবে প্রকল্প বন্ধের কোনো নির্দেশ এখনো পর্যন্ত না থাকলেও এনিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নার্সিংহোম মালিক বলেন, পরিষেবা দিতে অসুবিধা নেই। এমনিতেই এই প্রকল্পে টাকা পেতে অসুবিধা হয়। এখন পালাবদলের পর যদি বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসাথী বন্ধ করে দেয়, সেক্ষেত্রে টাকা পেতে অসুবিধা হবে। তাই ঝুঁকি নিতে পারছি না। এদিকে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেকে রোগী ও পরিজনদের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁদের দাবি, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আর এক হাসপাতালে ঘুরলেও সর্বত্রই জানানো হয়েছে, এখন স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয়।
ভোটের আগে প্রতিটি সভায় নিয়ম করে কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করার আশ্বাস দিয়েছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। শনিবারই ব্রিগেডে শপথ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও পাঁচ মন্ত্রী। তবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কবে চালু হবে। কী পদ্ধতিতে চালু করা হবে, সে নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ৫০০জন রোগী স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে থাকেন। পরিষেবা বাবদ প্রতিদিন প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার বিল স্বাস্থ্যদপ্তরে জমা পড়ে। জানা গিয়েছে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত জমা পড়া বিলের টাকা ইতিমধ্যেই প্রদান করা হয়েছে। তারপর থেকে বিল বকেয়া রয়েছে। তাই সরকার পবির্তনের পর ওই প্রকল্পে পরিষেবা দিলে আর টাকা মিলবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই ৪মে পর থেকেই জেলার অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোমে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নেওয়ার ক্ষেত্রে অঘোষিত বন্ধ করা হয়েছে। রোগী ও পরিজনদের দাবি, কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোম সরাসরি ফিরিয়ে দিচ্ছে না। বোঝাচ্ছে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা পেতে দেরি হবে কিংবা সমস্যা হবে। এসব ক্ষেত্রে আগে অভিযোগ করলে জেলা পরিষদ বা জেলা প্রশাসন হস্তক্ষেপ করত। এখন কোথায় অভিযোগ করব? বর্ধমানের প্রোগ্রেসিভ নার্সিংহোম অ্যান্ড হসপিটাল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি শেখ আলহাজউদ্দিন বলেন, সরকার তো আর প্রকল্প বন্ধ করেনি। তাই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা বন্ধ করা যাবে না বলে সংগঠনের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছে।