Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পাঠানখালি জাল বার্থ সার্টিফিকেট কাণ্ড: দলের কেউ যুক্ত কি না জানতে তদন্তে তৃণমূল

পাঠানখালি জাল বার্থ সার্টিফিকেট কাণ্ড: দলের কেউ যুক্ত কি না জানতে তদন্তে তৃণমূল
  • ১৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গোসাবার পাঠানখালি পঞ্চায়েত থেকে ইস্যু হওয়া প্রায় চার হাজার জাল বার্থ সার্টিফিকেট এবং তার ভিত্তিতে ইস্যু হওয়া ভারতীয় পাসপোর্ট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এমন একটি প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এই কারবার চালানোর অভিযোগে এক পঞ্চায়েত কর্মীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাত গুটিয়ে বসে নেই তৃণমূল। জাল বার্থ সার্টিফিকেট কাণ্ডে দলের কেউ জড়িত কি না, তা জানতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করবে তারা। কীভাবে পঞ্চায়েত প্রধানের নাকের ডগায় বছরের পর বছর ধরে এই কারবার চলল, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। তাই পঞ্চায়েতের কোনও সদস্য, এমনকী প্রধান, উপপ্রধানদের মধ্যে কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, দলীয় তদন্তে সেটাই দেখতে চাইছে রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূলের একটি অংশ বলছে, তিনবারের প্রধান  সুচিত্রা ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে আগে কখনও কোনও অভিযোগ আসেনি। অন্য অংশের দাবি, যে পঞ্চায়েত কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁর থেকে কোনও বাড়তি সুবিধা প্রধান বা অন্য কেউ নিয়েছেন কি না, খতিয়ে দেখা উচিত। এই দুই মতের কারণেই দলের মধ্যে তদন্তের সিদ্ধান্ত হয় বলে খবর। গোসাবায় তৃণমূলের আহ্বায়ক অনিমেষ মণ্ডল বলেন, ‘যদি দেখা যায় কোনও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বা অনিয়মের সঙ্গে দলের কেউ যুক্ত, তাহলে প্রধান হোক বা অন্য কেউ, কাউকে রেয়াত করা হবে না। ইতিমধ্যে কলকাতা পুলিস সাড়ে তিন হাজার জাল জন্ম সার্টিফিকেটের হদিশ পেয়েছে, যেগুলি ধৃত গৌতম সর্দার নিজেই করেছেন। কিন্তু প্রধান তা কোনওভাবে টের পেলেন না কেন? এনিয়েই চলছে চর্চা। প্রধানের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে দিনের পর দিন ধৃত পঞ্চায়েত কর্মী অপকর্ম চালিয়ে গেলেন, আর প্রধান কিছুই টের পেলেন না—দলের একাংশই তা বিশ্বাস করতে চাইছে না বলে খবর। তাই কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে আসার আগেই ঘাসফুল শিবির দলের মধ্যে অনুসন্ধান করে সত্যিটা জানতে চাইছে।

Advertisement

এদিকে, পাঠানখালি পঞ্চায়েত থেকে ইস্যু হওয়া জাল জন্ম সার্টিফিকেটগুলি বাতিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। ইতিমধ্যে তারা পাঠানখালি পঞ্চায়েতকে চিঠি দিয়ে সরকারিভাবে জানতে চেয়েছে, কোন শংসাপত্রগুলি জাল। চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করে প্রধান বলেন, ‘মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সার্টিফিকেটগুলি আসল না নকল, জানতে চেয়েছেন। আমরা তার উত্তর দিয়ে সেগুলি বাতিল করতে বলব।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ