স্টকহোম: অর্থনীতির গতি কখনও সরল নয়। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বা দেশের মধ্যে হঠাৎই গজিয়ে ওঠা কোনো সংকট মাঝেমাঝেই লক্ষ্যচ্যুত করে দেয় তাকে। তখন হন্যে হয়ে সেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজতে থাকে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সরকার। আর সেই পথের দিশা বাতলেই ২০২৬ সালের অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার জিতে নিলেন দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই. হল এবং মিচেল উডফোর্ড। প্রথমজন বর্তমানে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং দ্বিতীয়জন কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত। সোমবার অর্থনীতি নোবেল পুরস্কার প্রাপক হিসাবে তাঁদের নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি জানিয়েছে, মাইক্রো অর্থনীতির ভিতের উপর দাঁড়িয়ে ম্যাক্রো অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার পথ বাতলেছেন এই দুই দিকপাল অর্থনীতিবিদ।
মজার বিষয় হল, অধ্যাপক হলের পিএইচডি গাইড ছিলেন আর এক নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ রবার্ট এম সোলো। এই নিয়ে সোলোর অধীনে পিএইচডি করা পাঁচজন ছাত্র অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন। অধ্যাপক মিচেল উডফোর্ডের ছাত্রজীবন আবার ভীষণই বৈচিত্রময়। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ, ইয়েল ল’ স্কুল থেকে আইনে স্নাতকোত্তর করে তিনি যান ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি)। সেখান থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি করেন। অধ্যাপক হল এবং উডফোর্ড গত কয়েক দশক ধরে জনকল্যাণমূলক অর্থনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র। গত শতকের সত্তরের দশকে তেল সংকটের জেরে মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব চরম আকার ধারণ করে। আর্থিক অগ্রগতিও থমকে যায়। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে বিশেষ অর্থনৈতিক মডেল গ্রহণ করেছিল প্রায় গোটা বিশ্ব। আর বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে সেই মডেলের সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করেন হল ও উডফোর্ড। তাঁদের মডেল অনুযায়ী, অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন সাধারণ মানুষ। হাতে টাকা কম। কিন্তু চোখে অগাধ স্বপ্ন। সেই স্বপ্নপূরণ করতেই খরচ কমায় আম জনতা। এই সংক্রান্ত জ্ঞানই মাইক্রো অর্থনীতির ভিত্তি। সরকারি স্তর থেকেও তাই মাঝে মাঝে ব্যায় সংকোচনের কথা বলা হয়। আর মানুষকে কোনো কাজ থেকে বিরত করতে বসানো হয় কর। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই কাজটাই করে থাকে আরও সুচারুভাবে, সুদের হার নিয়ন্ত্রণ করে। এটাই ম্যাক্রো অর্থনীতি। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, ‘হল এবং উডফোর্ড দেখিয়েছেন সাধারণ পরিবার বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দূরদর্শী সিদ্ধান্ত আর সরকারের নীতিগত অবস্থান দেশের অর্থনীতিকে মন্দা বা আকস্মিক ধাক্কা থেকে কীভাবে রক্ষা করতে পারে।’



