কাঠমাণ্ডু: ভোটেকোশী নদীতে বিপর্যয়ের ক্ষত এখনও বহন করে চলেছে নেপাল। এরপর দেড় মাসও কাটল না। ২৬ আগস্টের সেই স্মৃতি রবিবার ফিরে এল বিপর্যস্ত নেপালে। এদিন গোর্খা জেলায় হড়পা বানে ভেসে গেল ৩৫টির বেশি বাড়ি এবং সেতু। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। কেউ অবশ্য হতাহত হয়নি। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে যেভাবে দু’বার ধ্বংসলীলার সাক্ষী থাকল হিমালয়ের কোলের এই দেশ, তাতে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের সংকেত দেখতে পাচ্ছেন ভূ-বিজ্ঞানীরা। এদিন গোর্খা জেলায় ত্রিশূলী নদীর উপনদী বুধিগণ্ডকী নদীর জলস্তর হঠাৎই বাড়তে শুরু করে। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, মানাসলু অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় একটি বড় ভূমিধসের জেরে বুধিগণ্ডকী নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ হঠাৎ ভেঙে গিয়ে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও জলের ধারা প্রবল বেগে নীচের দিকে নেমে আসে। ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে দেখা যাচ্ছে, কাদার তোড়ে নদী কালো এবং ছাই রং ধারণ করেছে।
নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার সকাল সাড়ে ৬টা ৩০ মিনিট নাগাদ বুধিগণ্ডকী নদীর জলস্তরের উচ্চতা ছিল ৩.৬৬ মিটার। মাত্র দু’ ঘণ্টা পর ৮টা ৪০ মিনিট নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮.৪৩ মিটার। শেষ ১০ মিনিটেই জলস্তর বেড়েছিল দু’মিটার। এটি ছিল বিপদসীমা অর্থাৎ ৫ মিটারের অনেক বেশি। এনডিআরআরএমএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘সেতু সহ মেজারমেন্ট সেন্টার ভেসে গিয়েছে। তাই এর বেশি তথ্য জানানো সম্ভব হচ্ছে না।’ তবে বৃষ্টির জেরে এই হড়পা বান হয়নি বলে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে। এনডিআরআরএমএ জানিয়েছে, ‘প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ এবং পর্যবেক্ষণ উপগ্রহের পাঠানো ছবি বিশ্লেষণ করে মনে হচ্ছে নদীর জল কোনো কারণে আটকে গিয়েছিল। এরপর বিপুল তোড়ে তা ভেসে যায়। তবে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, বিস্তারিত বিশ্লেষণের পরই তা জানা যাবে।
বুধিগণ্ডকীর নদীর চারপাশে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে বলা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে সতর্কতা জারি করা হয়। সেনাকে পুরো এলাকার উপর নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে জগত থেকে ছ’জনকে এয়ার লিফ্ট করে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেনার পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘কাঠমাণ্ডুতে কুইক রিঅ্যাকশন টিম তৈরি রাখা হয়েছে।’



