ঘরোয়া পরিবেশ বজায় রাখতে চান ব্রিটেনের পুজো উদ্যোক্তারা
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, লন্ডন: আকাশে-বাতাসে শরতের আগমনী সুর। সেই সুরে মিলেমিশে একাকার বাংলা ও ব্রিটেন। প্রবাসের সব পুজো কমিটিই ঘরোয়া পরিবেশ বজায় রাখতে চায়। ব্যতিক্রম নয় ইংল্যান্ডের ওয়ারউইকশায়ার সর্বজনীন পুজো কমিটি। ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর, চার দিন ধরে লেমিংটন স্পার ওয়েস্টন-আন্ডার-ওয়েদারলি ভিলেজ হলে অনুষ্ঠিত হবে তাদের পুজো। তাদের থিম—‘ঐক্যের আলপনা: ওয়ারলি শিল্পের মাধ্যমে ওয়ারউইক থেকে বাংলা।’ গত বছরের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে আয়োজকরা এবার সারাদিনব্যাপী এমন সব কার্যক্রমে জোর দিচ্ছেন, যাতে পরিবারের সবাই মিলে অংশ নিতে পারেন। দুর্গাপুজোর প্রথাগত আচার-অনুষ্ঠান, সান্ধ্যকালীন আরতির পাশাপাশি এখানে শিশুদের শিল্প ও কারুকাজ, সৃজনশীল কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে।

Advertisement

২০১৮ সালে নটিংহামে কয়েকটি বাঙালি পরিবার একত্রিত হয়ে দুর্গাপুজো শুরু করেছিল। ‘নটিংহাম বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন’-এর সেই পুজো এবার ন’বছরে পড়ল। এবছর তাদের পুজো ১৭ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। কার্লটন রোডের হিন্দু মন্দিরে আয়োজিত এই পুজোয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি ভক্ত ও দর্শনার্থী উপস্থিত থাকেন। এক আয়োজক ‘বর্তমান’কে বলেন, ‘এবারের থিমে আমরা পশ্চিমবঙ্গের হস্তশিল্পকে তুলে ধরেছি। আগের বছরগুলির মতো এবারও নিজেরাই মঞ্চসজ্জার কাজ করব।’ 
পুজো প্রস্তুতিতে মেতে উঠতে তৈরি ‘গ্রেটার ম্যানচেস্টার বেঙ্গলি হিন্দু কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন’ (জিএমবিএইচসিএ)। ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর ম্যানচেস্টারের উইথিংটনের গান্ধী হলে পুজোর আয়োজন করেছে তারা। তাদের পুজো এবার ৩৪ বছরে পড়ল। এই বছর রাধাকৃষ্ণ মন্দির এইচআরএস -এর সঙ্গে জিএমবিএইচসিএ গাঁটছড়া বেধেছে। 
আয়োজনে পিছিয়ে নেই স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো। গ্লাসগোয় দুর্গাপুজোর এবার ৪৬তম বছর। পেইজলির হাই স্ট্রিটের ‘কোটস পেইজলি প্রাঙ্গণে’ ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর তাদের পুজো অনুষ্ঠিত হবে। ‘বঙ্গীয় সাংস্কৃতিক পরিষদ’ (বিএসপি) গ্লাসগো-র আয়োজনে এই পাঁচদিনের পুজো স্কটল্যান্ডে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির। 
প্রথম প্রজন্মের অভিবাসীদের কাছে পুজো মানেই যেন কলকাতার অলিগলি, নতুন পোশাক, প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়ানো আর ভোগের সেই চিরচেনা সুবাস। অন্যদিকে, তরুণ ব্রিটিশ-বাঙালিদের কাছে এই উৎসব বাংলা শব্দ, গান, খাবার, রীতিনীতি ও গল্প শেখা-জানার একটি মাধ্যম। ব্রিটেনজুড়ে দুর্গাপুজো এখন এক ‘আপন করে নেওয়ার’ উৎসবে পরিণত হয়েছে। লন্ডনের কোনো বিশাল ভেন্যু, চ্যাথামের কমিউনিটি হল বা সারের চার্টসিতে আয়োজিত কোনো সমাবেশ— সর্বত্র আবেগের সুরটি অভিন্ন। মা আসেন, আর কয়েকটা দিনের জন্য যেন মনে হয় নিজের ঘর-আপনজন খুব কাছেই রয়েছে।