Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘পথ’ হারিয়েছে ‘পথশ্রী’! কাজ হয়েছে মাত্র ১১ শতাংশ রাস্তার, পালাবদলের সংশয় কাটিয়ে ফের তৎপর কেএমডিএ

রাজ্যের ৪০টি পুর এলাকায় রাস্তা পথশ্রী প্রকল্পে রাস্তার কাজ চলছে। কিন্তু, গত দেড় থেকে দুমাসে বিধানসভা নির্বাচন এবং তারপর রাজ্যে পালাবদলের জেরে এখন সেই কাজ গতি হারিয়েছে।

‘পথ’ হারিয়েছে ‘পথশ্রী’! কাজ হয়েছে মাত্র ১১ শতাংশ রাস্তার, পালাবদলের সংশয় কাটিয়ে ফের তৎপর কেএমডিএ
  • ১৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের ৪০টি পুর এলাকায় রাস্তা পথশ্রী প্রকল্পে রাস্তার কাজ চলছে। কিন্তু, গত দেড় থেকে দুমাসে বিধানসভা নির্বাচন এবং তারপর রাজ্যে পালাবদলের জেরে এখন সেই কাজ গতি হারিয়েছে। আশঙ্কা, দোটানায় ‘পথ’ হারিয়েছে পথশ্রী। এই পরিস্থিতিতে কেএমডিএর আওতায় পথশ্রী প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ে রাস্তার কাজ কবে শেষ করা যাবে, সেটা নিয়ে চিন্তিত প্রশাসন। হিমশিম অবস্থা কর্তাদের। তাঁরা পথশ্রী নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। যদিও, প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছে, পুরানো কাজ শেষ করতে কোনো সমস্যা নেই। কাজের গতি ত্বরান্বিত করা হবে।

Advertisement

রাজ্যের পুরসভাগুলিতে ১০ হাজারের বেশি রাস্তা নতুনভাবে তৈরি হচ্ছে অথবা সংস্কার হচ্ছে পুরানো রাস্তার। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাস্তা তৈরি করছে কেএমডিএ। ৬৩০০টি রাস্তার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০০০ কিমি। তার মধ্যে ৭৫ শতাংশ কংক্রিট ব্লকের। ঢালাই এবং পিচ দিয়ে হবে বাকিটা। বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা। কেএমডিএ সূত্রের খবর, গত কমাসে মাত্র ৭০০টি রাস্তা বা ১১ শতাংশ কাজ শেষ করা গিয়েছে। ঠিকাদারদের মেটানো হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ বরাদ্ধকৃত অর্থের অর্ধেকও খরচ করা যায়নি। রাস্তার কাজও এগোয়নি আশানুরূপ। ফলে পথশ্রী প্রকল্পের এই কাজ নিয়ে বেশ চাপে রয়েছেন কেএমডিএ কর্তারা। 
পালাবদলের ফলে এই কাজগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আশঙ্কা, দোটানার জেরে বহু ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে খবর। কেএমডিএ কর্তারা জানাচ্ছেন, ভোটের মধ্যে কাজ চালাতে সমস্যা হয়েছিল। ঠিকাদার সংস্থা ঠিকমতো শ্রমিক পাচ্ছিল না। এবার পালাবদলের পর সবটা কার্যত থমকে যায়! বিগত প্রকল্পগুলির টাকা মিলবে কি না, কাজ চললে ঠিকাদারদের পাওনা মেটানো যাবে কি না, সেসব নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়। তার জেরেই পথশ্রী প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড়িয়ে পড়ে। যদিও বিভিন্ন জায়গা থেকে নবনির্বাচিত বিধায়করা আমাদেরকে জানিয়েছেন, উন্নয়নের কোনো কাজ বন্ধ করার দরকার নেই। চালিয়ে যান। স্থানীয় স্তর থেকে বিভিন্ন পক্ষের তরফে আশ্বাস পেয়ে অনেক জায়গাতেই আবার কাজ শুরু হয়েছে।  পুর এলাকার জন্য ১০ কোটির মতো কংক্রিট ব্লক প্রয়োজন। কিন্তু জোগান ততটা নেই। দৈনিক গড়ে চার-সাড়ে চার হাজারের বেশি কংক্রিট ব্লক পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু বর্তমানে ওড়িশা এবং উত্তরবঙ্গ থেকে তাই বিপুল সংখ্যক কংক্রিট ব্লক আনানোর ব্যবস্থা হওয়ায় সেই সমস্যা অনেকটাই মিটে গিয়েছে। বিভিন্ন রাস্তায় জল জমার সমস্যা রয়েছে। ভারী গাড়িও চলাচল করে। এসব মাথায় রেখেই ৭৫ শতাংশ রাস্তার কাজ কংক্রিট ব্লকে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফি-বছর রাস্তা তৈরির খরচ এড়াতেই এবার টেকসই নির্মাণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 
এই কাজের গতি এমনিতেই প্রথম থেকে কিছুটা ধীর ছিল। এই প্রসঙ্গে অফিসাররা জানাচ্ছেন, রাস্তার তালিকা পাওয়া গিয়েছে অনেক দেরিতে। তারপর ফান্ড বরাদ্দ হয়েছে। এরপর টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হতেও লেগেছে কিছুটা সময়। তারপর ভোট এবং পালাবদলের জেরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা—কাজ সম্পন্ন হওয়ার নিম্নহার এজন্যই। তবে, এখন বিভিন্ন স্তর থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর কাজ চালু হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ