নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: কোন পথে ইংলিশবাজার পুরসভা? আজ, শনিবার তা একপ্রকার স্পষ্ট হতে চলেছে। পুরসভার চেয়ারম্যান পদে কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর ইস্তফা আদৌ গ্রহণ হবে কি না, তা নিয়ে বোর্ড অব কাউন্সিলারের বৈঠক রয়েছে আজ। সেখানেই ঠিক হয়ে যাবে তৃণমূল পুরবোর্ডের ভবিষ্যৎ।
কৃষ্ণেন্দুর ইস্তফা গৃহীত হয়ে গেলে আইন মেনে পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে বৈঠক ডেকে পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে হবে ভাইস চেয়ারম্যানকে। সেক্ষেত্রে তিনি যদি বৈঠক না ডাকেন, প্রশাসনের তরফে মহকুমা শাসক ওই বৈঠক ডাকতে পারেন। তবে এমন ডামাডোল পরিস্থিতি তৈরি হলে রাজ্যের অন্যান্য জায়গার মতো ইংলিশবাজার পুরসভাতেও প্রশাসক বসানোর পথে হাঁটতে পারে রাজ্য সরকার।
ফলে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছে বিজেপি। আজকের বৈঠকে পুরসভার বিরোধী দলনেতা তথা ইংলিশবাজারের বিজেপি বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি উপস্থিত না থাকার কথা জানালেও তাঁর দলের বাকি দু’জন কাউন্সিলার থাকবেন বলে জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে আজকের বৈঠকে শেষমেশ কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকে বিশেষভাবে নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।
এরই মধ্যে পুরসভায় দলের কাউন্সিলারদের নিয়ে কৃষ্ণেন্দুর অরেঞ্জ কেক কেটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন পালন ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিতে সেই কেক নিবেদন করা ঘিরে জোর চর্চা চলছে রাজনৈতিক মহলে। ইংলিশবাজারের বিজেপি বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ির এনিয়ে মন্তব্য, ১৭ সেপ্টেম্বর দেশবাসী প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করেছেন, কৃষ্ণেন্দুও করেছেন। ভালো। যদিও জেলার এক বিজেপি নেতার কটাক্ষ, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করেছেন তৃণমূল নেতা, এটা দেখে ভালো লাগল। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে কৃষ্ণেন্দু নিজেকে যেভাবে মোদিজির ভক্ত প্রমাণে মরিয়া হয়ে ওঠেন যে, আমরা ওঁর গলায় পরানোর জন্য লকেট অর্ডার দিয়েছি। কৃষ্ণেন্দুর অবশ্য বক্তব্য, আমার ইস্তফা এখনও গৃহীত হয়নি। ফলে আমি এখনও ইংলিশবাজারের চেয়ারম্যান। সেই হিসাবে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক আমি পুরসভায় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করেছি। কেকের কী রং ছিল, সেটা বড়ো কথা নয়। আর আমি তৃণমূলে ছিলাম। এখন নেই। গত ৯ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দিলেও এতদিন নিয়মিত পুরসভায় এসেছেন কৃষ্ণেন্দু। পুরপ্রধানের ঘরে না বসলেও পুরসভার মিটিং হল বা অন্যত্র বসে ফাইলেও সই করেছেন তিনি। যদিও চেয়ারম্যান হিসাবে কৃষ্ণেন্দুর সই করা বিলের বেশিরভাগটাই এখনও পাশ হয়নি। আটকে রয়েছে এগজিকিউটিভ অফিসারের টেবিলে। এই পরিস্থিতিতে কৃষ্ণেন্দু তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে সম্প্রতি বলেন, তৃণমূলে ফিরব না। তবে বড়ো ছাতার তলায় যাব। যেমন বৃষ্টি আসবে, তেমনভাবেই ছাতা ধরব। এরপরই ঘরের ছেলে কৃষ্ণেন্দুকে দলে ফিরিয়ে নিতে তৎপর হয় কংগ্রেস। বিজেপি অবশ্য দরজা আপাতত বন্ধই রেখেছে।
কিন্তু বিজেপির মন পেতে কৃষ্ণেন্দু কখনও জেলায় মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিতে ঝাঁপানো, কখনও প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে কেক কাটায় ঠেস সমালোচকদের। যদিও ইংলিশবাজার পুরসভার পাঁচবারের চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুর বক্তব্য, যা করেছি, পুরসভার চেয়ারম্যান হিসাবে করেছি। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। নিজস্ব চিত্র