নয়াদিল্লি: ‘অপরাধের অতীত রেকর্ড’ না থাকলে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদী পড়ুয়াদের মামলা থেকে রেহাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু ‘অতীত রেকর্ড’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে? ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন বা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মামলাও কি এর অন্তর্ভুক্ত? নির্দেশ ঘিরে তৈরি হওয়া ধন্দ কাটাতে সোমবার ব্যাখ্যা এল সুপ্রিম কোর্টের তরফে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং ভি মোহনার বেঞ্চ সাফ জানাল, অতীতের ফৌজদারি রেকর্ড বলতে শুধুমাত্র গুরুতর ও ঘৃণ্য অপরাধগুলির অভিযোগকে বোঝানো হয়েছে। সেই সঙ্গে এও স্পষ্ট করা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর বন্ধ বা প্রত্যাহারের বিষয়ে দিল্লি এবং অন্য যে-কোনো রাজ্য স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।।
এদিন বিক্ষোভকারীদের তরফে আদালতে হাজির আইনজীবী অভিষেক সিংভি বলেন, ‘অতীত ফৌজদারি রেকর্ডে’র অভিব্যক্তিটির স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। কারণ, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, ছোঠোখাটো অপরাধ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাও থাকতে পারে।’ কেন্দ্রের তরফে শীর্ষ আদালতে উপস্থিত ছিলেন সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরগুলি নিয়ে কী করা হবে, তা নিয়ে কিছু ধন্দ তৈরি হয়। আমাকে বলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সরকার প্রতিশ্রুতি পালনে আন্তরিক। যাদের অপরাধমূলক অতীত ছিল... তাদের ছাড়া বাকিদের মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে।’ তবে তিনি এও বলেছেন, ‘গুরুতর ও জঘন্য অপরাধের পূর্ব ইতিহাস থাকা ২ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে না’।
শুনানিতে পুলিশি বর্বরতার ইস্যু তোলেন প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শংকরনারায়ণন। তিনি বলেন, ‘আমরা আদালতে ৩০০টি ভিডিয়ো জমা দিয়েছি। ভিডিয়োগুলো খুবই মর্মান্তিক। যেহেতু শীর্ষ স্তর থেকে নির্দেশ এসেছে, পুলিশ কমিশনারকে অবশ্যই এসব খতিয়ে দেখতে হবে।’ এই ইস্যুতে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে’ অভিযুক্ত কোনো পুলিশ অফিসারকেই অযাচিত সুরক্ষা দেওয়া উচিত নয়। আবার এমনও হওয়া উচিত নয়, ছাত্র বিক্ষোভের আড়ালে একজন দাগি অপরাধীও রেহাই পেয়ে যাবে।