সম্প্রতি রবীন্দ্র সদনে ভবানীপুর বৈকালী অ্যাসোসিয়েশনের পরিবেশনায়, সঙ্গীতশিল্পী প্রমিতা মল্লিকের নির্দেশনায়, রবীন্দ্রনাথের চিত্রাঙ্গদা অবলম্বনে ‘রূপের অতীত রূপ’ মঞ্চস্থ হল। প্রথমে শতাধিক কন্ঠে চারটি গান পরিবেশিত হয়। বৈকালীর সমবেত সঙ্গীত সর্বদাই উচ্চমান বজায় রাখে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সঞ্চালক সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় সুন্দর করে পরের অর্ধের মূল ভাবটি ধরিয়ে দেন। এই অংশে ১৯৩৬-এর নৃত্যনাট্যের সঙ্গে কোথাও কোথাও ১৮৯২-এর কাব্যনাট্যকেও ব্যবহার করা হয়েছিল। নাটকে ফ্ল্যাশব্যাক পদ্ধতির ব্যবহার নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। প্রথমা ও দ্বিতীয়া— দুই চিত্রাঙ্গদার ভূমিকায় পূর্বিতা মুখোপাধ্যায় ছিলেন অনবদ্য। চমৎকার তাঁর নাচ ও অভিনয়। সখীদের নাচের কোরিওগ্রাফি প্রশংসনীয়। রিন্টু দাস (অর্জুন) ও সৌরভ রায় (মদন), দুই নৃত্যশিল্পী চরিত্রগুলিকে চমৎকার ফুটিয়ে তুলেছিলেন। চিত্রাঙ্গদার গানে, প্রধান চরিত্রে দূর্বা সিংহ রায় চৌধুরী, প্রিয়াঙ্গী লাহিড়ী ও প্রকৃতি মুখোপাধ্যায়— তিনজনই অত্যন্ত পরিণত ও শিক্ষিত শিল্পী। প্রত্যুষ মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে অর্জুনের গান প্রশংসার দাবি রাখে। বাকি সব গান ও পাঠ সুখশ্রাব্য ও যথাযথ। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের আবহসঙ্গীত এই উপস্থাপনাতে অনন্য মাত্রা যোগ করেছিল। কেবল কয়েকটি স্থানে মাইক একটু উচ্চগ্রামে থাকায় গানের কথা বোঝা যায়নি।



