সংবাদদাতা, রানাঘাট: চলন্ত ট্রেনের কামরায় ঢাক বাজিয়ে মন্ত্র পড়ে নৈবেদ্য সাজিয়ে হল বিশ্বকর্মা পুজো। এমনই দৃশ্য দেখা গেল ডাউন শান্তিপুর- শিয়ালদহ লোকালে। নিত্যযাত্রীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজো এবার ২০তম বর্ষে পদার্পণ করল। প্রতি বছরের মতো এবারও পুজোয়কোনো খামতি ছিল না।
সকাল ৭:২৮এর ডাউন শান্তিপুর-শিয়ালদহ লোকালের প্রথম কম্পার্টমেন্টের দ্বিতীয় গেটের যাত্রীদের মিলিত উদ্যোগেই বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করা হয়। উদ্যোক্তারা জানান, দু’দশক আগে মাত্র ৩০ জনকে নিয়ে এই পুজো শুরু হলেও বর্তমানে সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৮০। চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী কিংবা হকার, যাদের জীবনের একটা বড় অংশই কাটে ট্রেনে। আর এই ট্রেনের উপরেই নির্ভর করে তাঁদের রুটি-রুজি। তাই নিজেদের যাতায়াতের বাহনকে সুরক্ষিত রাখতে বিশ্বকর্মার আরাধনা। এদিন শান্তিপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়তেই শুরু হয় পূজোর তোড়জোড়, ফল কাটা থেকে নৈবেদ্য সাজানো। ট্রেন রানাঘাট স্টেশনে পৌঁছাতেই পুজোয় বসেন পুরোহিত। এরপর ট্রেন যখন শ্যামনগর স্টেশনে পৌঁছায় তখন শেষ হয় পুজো। পুজো শেষে পুরোহিত এবং ঢাকি দক্ষিণা নিয়ে আবার আপ শান্তিপুর লোকাল ধরে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এরপর ট্রেন ব্যারাকপুর পৌঁছানো পর্যন্ত চলে প্রসাদ বিতরণ। ট্রেনটি শিয়ালদহ পৌঁছালে যাত্রীরা বাবা বিশ্বকর্মার আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলের দিকে এগিয়ে যান। ট্রেন থেকে যাত্রীরা নেমে গেলেও প্রতিমা ওই কামরাতেই থেকে যায়। মধ্য রাতে ট্রেন কারসেডে ফিরলে স্টেশন মাস্টারের সহযোগিতায় কর্মীরা যত্ন সহকারে প্রতিমা নামিয়ে রাখেন। পরের দিন সকালে করা হয় বিসর্জন।