নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রেল যাত্রীদের একটি অংশকে কি মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে? শুধু খাবারই নয়, যে সংস্থার পানীয় জল ট্রেনে সরবরাহ করার অনুমোদনই নেই, সেগুলিই দেওয়া হচ্ছে রেল যাত্রীদের একাংশকে? এমনই সব প্রশ্নে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। রেল যাত্রীদের একটি বড়ো অংশের প্রশ্ন, চলন্ত ট্রেনে খাবার ও পানীয় জল সরবরাহের নামে আদতে কি তাঁদের শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে অসাধু কারবারিরা? আইআরসিটিসি এবং রেল কর্তৃপক্ষের চোখের সামনেই কীভাবে এমন কাজ সম্ভব হচ্ছে, তা নিয়েও প্রবল চর্চা শুরু হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, পুজোর আগে বিভিন্ন ট্রেন ও রেল স্টেশনের বেস কিচেনগুলিতে আচমকা নজরদারি চালাবে আইআরসিটিসি। ধরা পড়লে অভিযুক্ত ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। বাতিল হবে তাঁর লাইসেন্সও। একইসঙ্গে মোটা অঙ্কের জরিমানাও দিতে হবে অভিযুক্ত ঠিকাদার সংস্থাকে। জানা যাচ্ছে, সাধারণ রেল যাত্রীদের সুবিধার্থে অনুমোদিত খাবারের তালিকাও ফের প্রকাশ করবে রেলমন্ত্রক।
কীভাবে সামনে এল মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার সরবরাহের তথ্য? রেল সূত্রে খবর, এই ইস্যুতে ইতিপূর্বে নির্দিষ্ট কিছু ‘ইনপুট’ পেয়েছিল রেলমন্ত্রক। সেইমতো আইআরসিটিসিকে এব্যাপারে কয়েকটি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠনের নির্দেশ দেয় রেল বোর্ড। বাছাই করা কয়েকটি ট্রেন এবং স্টেশনে নজরদারি চালানোর কথা বলা হয়। জুলাইয়ের শেষ থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ট্রেন এবং স্টেশনে হানা দেয় ওই কুইক রেসপন্স টিম। তাতেই চোখ কপালে ওঠে। যেমন লখনউ রিজিওনে ১১৭টি ট্রেনে হানা দিয়ে অনুমোদনহীন ৫ হাজার ২৪১টি পানীয় জলের বোতল উদ্ধার করা হয়। চণ্ডীগড় রিজিওনের ৫১টি ট্রেন থেকে অনুমোদনহীন ৩ হাজার ১০৮টি পানীয় জলের বোতল উদ্ধার করা হয়। উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর রেল স্টেশনে অভিযান চালিয়ে অনুমোদন না থাকা একাধিক আইসক্রিমের প্যাকেট বাজেয়াপ্ত করা হয়। সবরমতী রেল স্টেশনে পাওয়া গিয়েছে মেয়াদ উত্তীর্ণ ছাঁচের টেট্রাপ্যাক। রেল সূত্রে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, এটি সম্ভবত হিমশৈলের চূড়ামাত্র। আর সেই কারণে ব্যাপক অভিযানের প্রয়োজন। পুজোর আগে সেই কাজই শুরু করতে চলেছে রেল এবং আইআরসিটিসি।