Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এবার যাত্রী সুরক্ষায় নজর দিন রেলমন্ত্রীকে নালিশ যাত্রীদের

শুধু ভাড়া বাড়ালে হবে না। যাত্রী সুরক্ষাতেও নজর দিতে হবে।

এবার যাত্রী সুরক্ষায় নজর দিন রেলমন্ত্রীকে নালিশ যাত্রীদের
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: শুধু ভাড়া বাড়ালে হবে না। যাত্রী সুরক্ষাতেও নজর দিতে হবে। বর্ধমানে দার্জিলিং মেলের বিলাসবহুল কোচে ছিনতাইয়ের ঘটনার পর এমনই দাবি তুলেছেন যাত্রীরা। তাঁরা রেলমন্ত্রীকে ট্যুইট করেছেন। যাত্রীদের দাবি, সংরক্ষিত কামরা সবসময় নিরাপদ বলেই ধরা হয়। যাত্রীরা মোটা টাকা খরচ করে সেই কোচের জন্য টিকিট কাটেন। অথচ সেই কোচেই দুষ্কৃতী তাণ্ডব চালিয়ে নিরাপদে ট্রেন থেকে নেমে গেল। শনিবার ভোরের ঘটনার পর যাত্রীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। জিআরপি দুষ্কৃতীর খোঁজে শনিবার সকাল থেকে তল্লাশিতে নেমেছে। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত তারা কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এক আধিকারিক বলেন, দাগী অপরাধীদের জেরা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সন্দেহভাজন অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত হদিশ পাওয়া যায়নি।

Advertisement


যাত্রীরা বলেন, এসি কামরার দরজা বন্ধ থাকে। তাছাড়া, গেটে নিরাপত্তারক্ষী থাকেন। তারপরও দুষ্কৃতী কীভাবে ট্রেনে উঠে ছিনতাই করল, তা বোঝা যাচ্ছে না। ডোমজুড়ের বাসিন্দা এনজেপি থেকে ট্রেনে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সিটের উপর তিনি ব্যাগ রেখেছিলেন। এক দুষ্কৃতী আচমকাই কোচে ঢুকে তাঁর ব্যাগ নিয়ে ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেয়। সেই সময় কোচে নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন না বলে অভিযোগ। যাত্রী দেবাশিস দাস বলেন, রেল ভাড়া বাড়িয়েই চলছে। কিন্তু যাত্রী সুরক্ষায় তাদের নজর নেই। সংরক্ষিত কামরায় টিকিট না কেটে ওঠা যায় না। কোচগুলিতে সব সময়ের জন্য নিরাপত্তারক্ষী থাকার কথা। তারপরও দুষ্কৃতী কোচের মধ্যে ঢুকল কীভাবে, রেলকে সেই কৈফিয়ত দিতে হবে। ওই দুষ্কৃতী ছিনতাই করতে এসে কোনও যাত্রীর উপর হামলাও করতে পারত। পুরো ঘটনা জানিয়ে রেমন্ত্রীকে ট্যুইট করেছি। আশা করি তিনি পদক্ষেপ নেবেন। আর এক যাত্রী বলেন, সাধারণ ট্রেনে চুরি, ছিনতাই হওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু সংরক্ষিত কোচও যদিও সুরক্ষিত না থাকে, তাহলে রেলের প্রতি যাত্রীদের ভরসা কমে যাবে। প্রতিটি ট্রেনেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা উচিত। বিশেষ করে রাতের দিকে প্রতিটি কোচে নিরাপত্তারক্ষী রাখা বাধ্যতামূলক করা উচিত।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সংরক্ষিত কোচের গেট কে বা কারা খুলেছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কোচে নিরাপত্তারক্ষী থাকার কথা থাকলেও কেন তাঁরা ছিলেন না, তা নিয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। কোনও রেলকর্মীর গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাত্রীরা অভিযোগে জানিয়েছেন, বর্ধমান স্টেশনে ঢোকার আ঩গে ওই দুষ্কৃতী ‘অপারেশন’ চালায়। কোচে একজনকেই দেখা গিয়েছিল। ঘটনার সময় ট্রেনের গতি কম ছিল। সেই সুযোগে দুষ্কৃতী ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেয়। প্রথমে যাত্রীরা কিছু টের না পেলেও ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁরা চিৎকার করেন। ততক্ষণে দুষ্কৃতী ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে 
চম্পট দেয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ