


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইন্ডিগো বিমান বাতিলের জেরে শুক্রবার দিনভর প্রবল সমস্যায় পড়লেন বিমান যাত্রীরা। কোনও যাত্রীর কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল। কারও মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা ছিল। কেউ চিকিৎসার জন্য অন্য শহরে যাচ্ছিলেন। কিন্তু বিমান পরিষেবা বিঘ্নিত থাকায়, তাঁরা সময়মতো পৌঁছোতেই পারলেন না। স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন যাত্রীরা। অধিকাংশের একটাই বক্তব্য, গত তিনদিন ধরে সমস্যা চলছে। ইন্ডিগো বিমান সংস্থা সেটা খুব ভালোভাবেই জানে। তাহলে যে বিমানগুলি বাতিল হচ্ছে, সেগুলির আগাম খবর কেন দেওয়া হচ্ছে না? হুগলি জেলার কোন্নগরের বাসিন্দা সাথী সিনহার হায়দরাবাদে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কলকাতা বিমানবন্দরে এসে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর তিনি জানতে পারেন, বিমান বাতিল হয়েছে। বিমান সংস্থার কাছে তাঁর প্রশ্ন, আমার মেয়ে ওখানে একা রয়েছে। আমার সেখানে যাওয়াটা দরকার ছিল। আমি সেখানে পৌঁছোতেই পারলাম না। এর দায় কে নেবে?
বুধ, বৃহস্পতি এবং শুক্রবার টানা তিন দিন ইন্ডিগো বিমান সংস্থার বিভ্রাট চলছে। বিমান কর্মী কম থাকায় তৈরি হয়েছে এই সমস্যা। তাতে সময়মতো বিমান কলকাতা থেকে রওনা হচ্ছে না। আবার অন্য শহর থেকে কলকাতাতেও আসছে না। তার সঙ্গে চলছে পাল্লা দিয়ে বিমান বাতিল। কলকাতা বিমানবন্দরের দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, প্রচুর সংখ্যক বিমান বাতিল হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের থেকে কয়েক ঘণ্টা দেরিতে চলছে বেশ কিছু বিমান। বুথ থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কলকাতায় আসা এবং যাওয়া মিলিয়ে ইন্ডিগোর বিমান দেরিতে চলেছে ৩২০টি। এই সময়কালে বাতিল হয়েছে ৯২টি বিমান।
বিমান বাতিলের জেরে যাত্রীরা প্রবল সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। কলকাতা বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা গিয়েছে, যাত্রীরা ইন্ডিগোর কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে পরিষেবা নিয়ে অশন্তোষ প্রকাশ করছেন। সুশান্ত ভট্টাচার্য নামে এক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, ইন্ডিগো বিমান বাতিলের জেরে অন্য সংস্থার বিমানগুলিতে ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। এখন চড়া দামে অন্য বিমান সংস্থার টিকিট কাটা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। যেখানে ইন্ডিগোর বিমানের টিকিট কাটা হয়েছিল ৩০০০ টাকা দিয়ে। সেখানে অন্য সংস্থা চাইছে ৭০০০ টাকা। অমিত সরকার নামে এক যাত্রীর বক্তব্য, বিমান বাতিলের খবর আগে থেকে দেওয়া হচ্ছে না। শেষ মুহূর্তে জানানো হচ্ছে। বিমান সংস্থা আগে থেকে জানালে অন্য ব্যবস্থা করা যেত। তারও সুযোগ মিলছে না।