


সুখেন্দু পাল, মেমারি: মেমারিতে ঐক্যই শক্তি তৃণমূলের। এই বিধানসভাকেন্দ্রে শাসক দলের নিজেদের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল। কিন্তু, সেই মান অভিমানের ইতি হয়েছে। সব পক্ষই এখন দলের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে। কয়েক দিন আগে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মেমারিতে এসে বলে গিয়েছেন, তৃণমূল প্রার্থী জিতলে উন্নয়ন দ্রুত গতিতে এগোবে। তারপর থেকেই শাসক দলের নেতাদের মধ্যে ‘জোশ’ যেন আরও বেড়ে গিয়েছে। বুথ থেকে ব্লকস্তরের নেতা সকলেই নিজেদের মতো করে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের এক নেতা বলেন, মেমারির উপর শীর্ষ নেতৃত্বের নজর রয়েছে। কে কী করছে, তা তারা নজর রাখছে। তাই কেউই দলের উল্টো পথে হাঁটার ঝুঁকি নেবে না।
এবার এই বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করা হয়েছে। মধুসূদন ভট্টাচার্যকে সরিয়ে যুব তৃণমূলের সভাপতি রাসবিহারী হালদারকে প্রার্থী করা হয়েছে। মধুসূদনবাবু প্রথম থেকেই প্রচারে ঝাঁপ দিয়েছেন। তিনি বলেন, দল আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। এখন প্রার্থীকে জেতানোয় আমাদের লক্ষ্য।
মেমারি ব্লক তৃণমূলের সভাপতি নিত্যানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মেমারি থেকে আমরা রেকর্ড ভোটে জয়ী হব। সব পঞ্চায়েত এলাকাতেই উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। সেসব কিছু আমরা প্রচারে তুলে ধরছি। মেমারি শহরের তৃণমূল নেতা স্বপন ঘোষাল বলেন, এখানে আমাদের জয় পাওয়া নিয়ে সংশয় নেই। মানুষের মধ্যে যে উন্মোদনা দেখছি, তাতে আমরা জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মেমারি বিধানসভা কেন্দ্রে বামেদের অনেকেই জার্সি বদল করে গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছে। তাদের অনেকেই সামনে না এলেও ভিতরে ভিতরে ‘অপারেশন’ চালিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূল প্রচারে বেরিয়ে সুকৌশলে বলছে, আপনারা ভুলে যাবেন না সিপিএমের সেই অত্যাচারের কথা। বিরোধী দল করলেই সেই সময় অত্যাচার করা হত। তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড কয়েক দিন আগে মেমারিতে রোডশো করতে এসে বলেন, সিপিএমের জমানায় এখানে বিরোধীদের পুকুরে বিষ ঢেলে দেওয়া হত। চাষ বয়কট করা হত। এখানকার নেতা বিনয় কোঙার নন্দীগ্রামের ‘লাইফ’ হেল করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কাদের লাইফ ‘হেল’ হয়েছে, তা আপনারা দেখেছেন।
মেমারির সিপিএম প্রার্থী কৃশানু ভদ্র প্রচারে বেরিয়ে অবশ্য বাম জমানার কথা তুলে ধরছেন। তিনি বলেন, এখন কৃষকরা ফসলের দাম পাচ্ছে না। আলু চাষিদের এবার লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। চাষিদের অবস্থা আগে এত খারাপ ছিল না। বিজেপি প্রার্থী মানব গুহ প্রাচারে বেরিয়ে বলছেন, এরাজ্যে অরাজকতা চলছে। রাজ্যে আইন কানুন নেই।
তৃণমূল প্রার্থী রাসবিহারী হালদার বলেন, মানুষের যে আবেগ দেখতে পাচ্ছি তাতে আমি নিশ্চিত এক লক্ষ ভোটে জিতব। প্রতিটি এলাকতেই আমাদের কর্মীরা প্রচার করছেন। মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।