নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ‘তোলাবাজি-কাটমানি’ ইস্যুতে দলের রাজ্য সভাপতি কড়া বার্তা দেওয়ার পর বাঁকুড়ার পদ্ম বিধায়কদের নিয়ে বিজেপির অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই জেলা নেতৃত্বের তরফে রাজ্যে রিপোর্ট গিয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে। দলের মণ্ডল সভাপতিদের সঙ্গে বিধায়কদের বিরোধ মেটাতে জেলা নেতৃত্বকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিধায়কদের কাজে জেলা নেতৃত্ব অতিষ্ঠ হচ্ছেন। পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরাও দু’তিনজন বিধায়কের কাজকর্ম নিয়ে উপরমহলে অসন্তোষ জানিয়েছেন।
বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘দল সকলের উপর নজর রাখছে। কেউ নিয়ম ভাঙলে দলীয় নেতৃত্ব ব্যবস্থা নেবে। ’ উল্লেখ্য, সম্প্রতি গঙ্গাজলঘাটি থানা এলাকার একটি সিমেন্ট কারখানায় লোক ঢোকানো নিয়ে এক বিধায়ক বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। অনুগামীদের নিয়োগ না করলে ৩০০ লোক নিয়ে ওই সিমেন্ট কারখানা ঘেরাও করা হবে বলে তিনি মালিককে হুঁশিয়ারি দেন। বিষয়টি নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ বাঁকুড়া জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের দ্বারস্থ হয়। জেলা পুলিশের কর্তারা বিষয়টি দেখার জন্য গঙ্গাজলঘাটি থানাকে নির্দেশ দেন। উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের জন্য বলা হয়। গঙ্গাজলঘাটির যেখানে সিমেন্ট কারখানাটি রয়েছে তা ওই বিধায়কের এলাকা নয়। অন্য বিধানসভা এলাকায় কেন তিনি মাতব্বরি করতে গিয়েছেন, তা নিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের পাশাপাশি বিজেপি নেতৃত্বও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
জেলার অপর এক বিজেপি বিধায়কের এক ঘনিষ্ঠ কিছুদিন আগে এক ট্রাক মালিক সংগঠনকে হুঁশিয়ারি দেন বলে অভিযোগ। ওই সংগঠনের আওতায় প্রচুর ট্রাক রয়েছে। জেলার শিল্পাঞ্চলে কোন ট্রাক কত পণ্য পরিবহণ করবে তা ওই সংগঠন ঠিক করে দেয়। ওই সংগঠনে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন হয়। সেই ‘মধুভাণ্ডে’র স্বাদ নিতে বিজেপির একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে চরম কোন্দল শুরু হয়েছে। সেখানে ওই বিধায়কের ঘনিষ্ঠ নাক গলিয়েছেন। তাঁর পরিচিত ১০০টি ট্রাক মালিককে পণ্য পরিহণের বরাত দিতে হবে বলে তিনি হুমকি দেন। জেলার কয়েকজন বিধায়ক প্রোমোটার, ঠিকাদারদের সঙ্গে অতিরিক্ত ‘সখ্য’ রেখে চলছেন বলে বিজেপির নেতাকর্মীরাই অভিযোগ তুলেছেন।