নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ফের ঘুরিয়ে যাত্রী ভাড়া বৃদ্ধির সুপারিশ করল রেল সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সোমবার সংসদে এসংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করেছে বিজেপি সাংসদ সিএম রমেশের নেতৃত্বাধীন সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। তারা জানিয়েছে, রেলের যাত্রী রাজস্ব এবং পরিচালনগত খরচের মধ্যে ব্যবধান কমানো প্রয়োজন। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন চিহ্নিত রেল রুটে ট্রেনের প্রিমিয়াম সার্ভিস চালুর ব্যাপারেও সওয়াল করেছে ওই সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। উল্লিখিত রিপোর্টে ডিমান্ড বেসড ফেয়ার ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়ার সুপারিশ করেছে স্ট্যান্ডিং কমিটি। প্রশ্ন উঠছে, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ মেনে মাত্র আট মাসের ব্যবধানে তাহলে কি ফের যাত্রী ভাড়া বৃদ্ধির পথে হাঁটবে রেলমন্ত্রক? বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন আম জনতা।
রেলের সর্বশেষ যাত্রী ভাড়া পরিবর্তিত হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর। সংসদীয় কমিটিকে দেওয়া জবাবে রেলমন্ত্রক জানিয়েছে, বিভিন্ন সাধারণ স্লিপার কোচ ডাউনগ্রেড করে অসংরক্ষিত কামরায় পরিণত করার অধিকার দেওয়া হয়েছে রেলওয়ে জোনগুলিকে। তবে ঘুরিয়ে ভাড়া বৃদ্ধির সুপারিশ করা হলেও রেল সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তার রিপোর্টে জানিয়েছে, প্রান্তিক স্তরের মানুষের যাতে কোনো সমস্যা না হয়, তা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে রেলকে। সোমবার সংসদে যে রিপোর্ট পেশ করেছে স্ট্যান্ডিং কমিটি, সেখানে প্রধানত রেলের আর্থিক হাল নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আর সেই প্রেক্ষিতেই ঘুরিয়ে টেনে আনা হয়েছে রেলের যাত্রী ভাড়া বৃদ্ধির প্রসঙ্গ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে রেলের বাজেট এস্টিমেট ছিল প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি। কিন্তু সংশোধনের পর তা নেমে আসে ১ হাজার ৩৪১ কোটিতে। ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরেও ৩ হাজার ৪১ কোটি থেকে তা নেমে আসে ১ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকায়।
কমিটি তার রিপোর্টে জানিয়েছে, প্রধানত সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বহু ক্ষেত্রেই যাত্রী পরিষেবা দিতে হয় রেলকে। গড়ে প্রায় ৪৫ শতাংশ ভরতুকি দেওয়া হয় সাধারণ যাত্রীদের। আর্থিকভাবে লাভবান নয়, এমন অনেক রুটেও ট্রেন চালানো হয়। কারণ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ রাখা প্রয়োজনীয়। এপ্রসঙ্গে রেলের অপাটেরিং রেশিওর উল্লেখও করা হয়েছে কমিটির রিপোর্টে। অর্থাৎ, ১০০ টাকা আয় করতে রেলকে যা খরচ করতে হয়। কমিটি জানিয়েছে, এই খরচের পরিমাণ লাগাতার বেশিই থাকছে। তবে ‘ফেয়ার ম্যানেজমেন্ট’ এবং ‘প্রিমিয়াম সার্ভিসে’র পাশাপাশি নন-ফেয়ার রেভিনিউয়ের ব্যাপারেও রেলকে উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করেছে ওই সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। ট্রেনের কোচ ও স্টেশন চত্বরে বিজ্ঞাপন দেওয়া, রেলের অব্যবহৃত জমি লিজে দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো বা এটিএম কিয়স্ক বসানোর মতো পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে।