Bartaman Logo
১১ আগস্ট, ২০২৬

সংসদ অচলই, ৩ দাবি মানার শর্ত বিরোধীদের, ছাত্র বিক্ষোভ: জবাব দেবেন শাহ, বার্তা কেন্দ্রের

শর্ত থেকে সরছে না বিরোধীরা। নত হতে নারাজ সরকারও। তাই সংসদে জট জারি। বাদল অধিবেশনে কখনো ১৩ সেকেন্ড, কখনো এক-দেড় মিনিটে মুলতুবি হয়ে যাচ্ছে লোকসভা।

সংসদ অচলই, ৩ দাবি মানার শর্ত বিরোধীদের, ছাত্র বিক্ষোভ: জবাব দেবেন শাহ, বার্তা কেন্দ্রের
  • ১১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার,  নয়াদিল্লি: শর্ত থেকে সরছে না বিরোধীরা। নত হতে নারাজ সরকারও। তাই সংসদে জট জারি। বাদল অধিবেশনে কখনো ১৩ সেকেন্ড, কখনো এক-দেড় মিনিটে মুলতুবি হয়ে যাচ্ছে লোকসভা। অধিবেশন অচলের জন্য সরকারের তির বিরোধীদের দিকে। আর বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারই চলতে দিচ্ছে না। ‘সভায় আসার সাহস নেই প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।’ সোমবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সোজাসাপটা প্রশ্ন, ‘অমিত শাহ স্পষ্ট ভাষায় বলুন ছাত্র বিক্ষোভে গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল? তিনি দিয়েছিলেন কি? হ্যাঁ অথবা না। তিনি না দিলে, কে দিল? আর যদি তাঁর অজান্তে কেউ নির্দেশ দেয়, তাহলে প্রমাণ অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে থাকার অযোগ্য। তাই ইস্তফা দিন।’ 

Advertisement

মোট ১৯ দিনের বাদল অধিবেশন। ২০ জুলাই থেকে ১৩ আগস্ট। এর মধ্যে ১৪ দিনই সংসদে ‘গায়েব’ অমিত শাহ। যা নিয়ে এদিনও সংসদ চত্বরে বিক্ষোভ দেখাল বিরোধীরা। লোকসভার অন্দরেও ওয়েলে নেমে চলল স্লোগান সহ প্রতিবাদ। সভার অন্দরে আসছেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। সে লোকসভা হোক বা রাজ্যসভা। তাই তিন দাবিতে অনড় বিরোধীরা। বিরোধীদের লাগাতার চাপে এখন অধিবেশনের শেষ সপ্তাহে অমিত শাহ সভায় আসতে চাইছেন। সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজুকে দিয়ে বিরোধীদের বার্তাও দিয়েছেন। যদিও বিরোধীরাও জানিয়ে দিয়েছে, কোনো আপস নয়। তিন ইস্যুতেই সরকারকে জবাব দিতে হবে। রাহুল গান্ধী বললেন, ‘আসলে অমিত শাহর বেলুন ফেটে গিয়েছে। তাই যতই সেলাই করে জোড়াতাপ্পি দেওয়ার চেষ্টা হোক না কেন, হবে না। এখন অধিবেশনের শেষ সপ্তাহে অমিত শাহ সভায় আসতে চাইলেও ওনার ফ্যান্টাসি বক্তৃতায় আমাদের কোনো আগ্রহ নেই।’ সহমত তৃণমূলও। দলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘বক্তৃতা নয়, বিবৃতি। অমিত শাহর কোনো বক্তৃতা শুনতে চাই না। ছাত্রদের ওপর পুলিশি হামলার নির্দেশ কে দিয়েছিল, স্পষ্ট করে বিবৃতি দিন। নাহলে সংসদ চলবে না।’ এদিন দুপুরে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কক্ষে বসেছিল কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক। সেখানেই রিজিজু জানান, অমিত শাহ সভায় আসবেন। ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে আলোচনা শেষে জবাবও দেবেন। যদিও বিরোধীদের পক্ষে গৌরর গগৈ, কে সুরেশ, দয়ানিধি মারানের মতো সাংসদরা জানিয়ে দিয়েছেন, একটি নয়। দুটি বিষয়ই আলোচনা করতে হবে। তবেই আমরা রাজি। ১) ছাত্র-যুবর ওপর হামলা। ২) রামমন্দিরে প্রণামি চুরি। বিরোধীদের এই প্রস্তাবে অবশ্য রাজি হননি রিজিজু। ‘প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমাও চাইতে হবে’ বলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধীদের তৃতীয় দাবি মনে করিয়ে দিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রীই তৈরি করেছেন রামমন্দির ট্রাস্ট। নরেন্দ্র মোদির বিশ্বস্ত সদস্যরাই রয়েছেন চুরির নেপথ্যে। তাই ছাত্র-যুবর ওপর হামলা এবং প্রণামি চুরি, দেশবাসীর কাছে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে। এত বড়ো চুরির ঘটনা সামনে আসার পরেও কেন ‘মৌন’ মোদি? 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ