সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: সোমবার দিল্লির সরকারি স্কুলে শুরু হল নবম শ্রেণির ছাত্রীদের সাইকেল বিতরণ। আর প্রথম দিনেই বিরোধীদের তোপ—‘দিল্লি সরকার সাইকেল চোর!’ কারণ, ছাত্রীদের জন্য কেনা সাইকেলেও ‘কাটমানি’র অভিযোগ!
সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: সোমবার দিল্লির সরকারি স্কুলে শুরু হল নবম শ্রেণির ছাত্রীদের সাইকেল বিতরণ। আর প্রথম দিনেই বিরোধীদের তোপ—‘দিল্লি সরকার সাইকেল চোর!’ কারণ, ছাত্রীদের জন্য কেনা সাইকেলেও ‘কাটমানি’র অভিযোগ!
সকালেই রাজধানীর রাজপথে দেখা গেল বিস্ময়কর দৃশ্য। আম আদমি পার্টির বিধায়করা সকলেই একেবারে নতুন কেনা ঝকঝকে সাইকেল চেপে বিধানসভার দিকে যাচ্ছেন। মুখে স্লোগান, ‘সাইকেল চোর কাহা মিলেঙ্গে!’ বিস্ফোরক অভিযোগটি দাগলেন আপ মুখপাত্র সৌরভ ভরদ্বাজ। বললেন, ‘এই সব সাইকেল আমাদের বিধায়করা দিল্লির সাধারণ দোকান থেকে কিনেছেন। দুর্নীতির পাহাড়টা চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর জন্য। এক্ষেত্রে অন্তত কোনো কাগজপত্রের প্রয়োজন নেই। হাতে গরম উদাহরণ। একটি বিশেষ সংস্থার এই এক একটি সাইকেলের দাম ৪ হাজার ২০০ টাকা। এর থেকে আমরা কী প্রমাণ করতে চাই? দিল্লির বিজেপি সরকার ধুমধাম করে শুরু করেছে বিদ্যা বাহিনী স্কিম। সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রীদের প্রথম দফায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার সাইকেল দেওয়া হবে। ঠিক এই ব্র্যান্ডের ১ লক্ষ ৩০ হাজার সাইকেল বিজেপি সরকার আপাতত কিনেছে। এই এক একটি সাইকেলের দাম তারা দিয়েছে ৬ হাজার ৯৫৭ টাকায়। অর্থাৎ, প্রতিটি সাইকেলে সরকার অতিরিক্ত দিয়েছে ২ হাজার ৭৫৭ টাকা।’ সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, ‘আমরা কিছু সাইকেল কিনেছি ৪ হাজার ২০০ টাকা দরে। কিন্তু ওই একই সাইকেল যখন ১ লক্ষ ৩০ হাজার কেনা হবে, খুব স্বাভাবিকভাবেই সেটা আরও অনেক কম দামে পাওয়া যাবে! সরাসরি কোম্পানি অথবা কোনও ডিস্ট্রিবিউটরের থেকে হলে ডিসকাউন্ট আরও বেশি হবে। তাহলে প্রতি সাইকেলে প্রায় ৩ হাজার টাকা বেশি দেওয়া হল কেন? আম আদমি পার্টির মুখপাত্রর বক্তব্য, ‘বিরোধী রাজ্যে কাটমানি আর কমিশন নিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব অনেক বড়ো বড়ো দাবি করেন না! কিন্তু প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চোখের সামনে খাস দিল্লির সরকারি প্রকল্পে বুক ফুলিয়ে কাটমানি খাওয়া চলছে।’ আম আদমি পার্টির সাফ দাবি, সরকার জবাব দিক এবং তদন্ত করুক যে, এই গোটা টেন্ডার প্রক্রিয়া কীভাবে অনুমোদিত হল। কোনো এজেন্সি থেকে কেনা হয়েছে কি না।
দিল্লির রেখা গুপ্তা সরকার অবশ্য অভিযোগ স্বীকারের ধারকাছ দিয়ে যায়নি। উলটে আক্রমণ করেছে আম আদমি পার্টিকেই। বলেছে, ক্ষমা চাইতে হবে ওদের। বিজেপি বিধায়ক ও মুখপাত্র হরিশ খুরানা বলেছেন, ‘এই সাইকেল ইস্যু নিয়ে আসলে আম আদমি পার্টি পাঞ্জাবের দুর্নীতি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে চাইছে। লাভ হবে না। দিল্লি সরকারের সাইকেল কেনা হয়েছে সম্পূর্ণ টেন্ডার ডেকে, নিয়ম মেনে। সাইকেল পাওয়া যায় ৪ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে। সুতরাং আম আদমি পার্টির অভিযোগ সম্পূর্ণ মনগড়া। ক্ষমা না চাইলে সরকার আদালতে যাবে।’