Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নতুন রূপে সেজে উঠল উদ্যান, মদ ও গাঁজার ঠেক বন্ধের আশায় এলাকাবাসী

নতুন রূপে সেজে উঠল উদ্যান, মদ ও গাঁজার ঠেক বন্ধের আশায় এলাকাবাসী
  • ৪ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নামে আতাবাগান হলেও এতদিন গড়িয়ার এই অঞ্চলে কোনও আতা গাছ ছিল না। এবার সেই আতাবাগানেই পোঁতা হল আতা গাছ। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে আতাবাগান ডি ব্লকের পার্ক। সেখানেই লাগানো হয়েছে ১২০টি আতা গাছ। এলাকাবাসী বলছেন, ‘এতদিনে এই এলাকার নাম সার্থক হল।’ নতুন করে উদ্যানটি সেজে ওঠায় খুশি স্থানীয়রা। যেখানে আগাছায় ভরা অন্ধকারাচ্ছন্ন পার্কে সন্ধ্যা নামতেই দুষ্কর্ম শুরু হয়ে যেত, সেখানে এবার এসব বন্ধ হবে, দাবি বাসিন্দাদের।

Advertisement

আগামী ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আতাবাগানের ডি ব্লকে নবরূপে সজ্জিত এই পার্কের উদ্বোধন করবেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তার আগে জোরকদমে চলছে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি। এই অঞ্চলে মাত্র এই পার্কটি এতদিন শ্রীহীন হয়ে পড়েছিল। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে আগাছার জঙ্গল তৈরি হয়েছিল। খেলাধুলো বা বিশ্রামের উপযোগী ছিল না পার্কটি। সঙ্গে ছিল সমাজবিরোধীদের উৎপাত। স্থানীয় বাসিন্দা মনোরঞ্জন দাস বলেন, পাশের সোনারপুর-রাজপুর এলাকা থেকে একদল যুবক এসে আসর জমাত এখানে। সন্ধ্যা নামলেই মদ-গাঁজার ঠেক চলত পার্কে। সেখানে সুন্দর করে সেজে উঠেছে পার্কটি। উদ্যানটি এখন ব্যবহারের যোগ্য হয়েছে। দারুন লাগছে এখন জায়গাটি।
উদ্যানজুড়ে তৈরি হয়েছে ‘ওয়াক ওয়ে’। সেই সঙ্গে বানানো হয়েছে একটি মার্বেলের মঞ্চ। যেখানে স্থানীয়রা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে পারবেন। তৈরি করা হয়েছে ওপেন জিমনাশিয়াম। পাশাপাশি প্রচুর গাছ লাগানো হয়েছে পার্কজুড়ে। কী কী গাছ পোঁতা হয়েছে পার্কে? রয়েছে ২৫টি পাম ট্রি, ১২০টি আতা গাছ, ৪০০টি সিজিয়াম, ৪০০টি টগর গাছ, ৩০টি দেবদারু গাছ। পাশাপাশি গোটা উদ্যানকে ন’ হাজার বর্গফুটের ঘাসে মুড়ে ফেলা হয়েছে। রয়েছে বাচ্চাদের জন্য স্লিপ, দোলনা ইত্যাদি। ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সন্দীপ দাস বলেন, এত বড় একটা জায়গা দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়েছিল। অনেকেই সংস্কারের দাবি জানিয়েছিলেন। তাই এই উদ্যানের ভোলবদলে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের তরফে এই কাজে নানা পরামর্শ এবং সহযোগিতা পেয়েছি। 
উল্লেখ্য, আতাবাগানের এই উদ্যানটি সংস্কারের কাজ শুরুর সময় কয়েকটি পুরনো গাছ কাটা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই সব বিতর্ক দূরে সরিয়ে সেই উদ্যান এখন নতুন গাছে ভরে উঠেছে। পার্কের চারপাশে থাকা অব্যবহৃত জায়গা ভেঙে লাগোয়া রাস্তাকে আরও চওড়া করা হয়েছে। যাতে সহজেই গাড়ি চলাচল করতে পারে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ