তারক চক্রবর্তী, মালদহ: মানব পাচারকারীদের হাত থেকে স্কুল ছাত্রীদের বাঁচাতে অভিনব উদ্যোগ নিল মালদহ জেলা প্রশাসন। জেলার সমস্ত হাইস্কুলের ছাত্রীদের তথ্য নিজেদের ডেটাবেসে নিতে চলেছে প্রশাসন। সাতদিন বা তার বেশি ছাত্রীরা অনুপস্থিত থাকলেই, তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সমস্ত স্কুল কর্তৃপক্ষকে। শুধুমাত্র তালিকা রাখাই নয়, তাদের অভিভাবকদের নাম ও ফোন নম্বর রাখবে প্রশাসন। ছাত্রীরা কেন স্কুলে আসছে না, অভিভাবকদের ফোন করে নেওয়া হবে খোঁজখবর। জেলার ছাত্রীরা যাতে কোনোভাবেই পাচার না হয়, কিংবা পাচারকারীদের খপ্পরে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই এই ধরনের কর্মসূচি নিয়েছে প্রশাসন। জেলার ৫৬৫ টি হাইস্কুলকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত স্কুলকে তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসনের কাছে জমা করতে হবে। নির্দিষ্ট নিয়মে সেই ফর্ম ভরে জমা করতে হবে।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) মৃন্ময় রায় বলেন, জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে আমাদের একটি নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। সাতদিনের বেশি অনুপস্থিত ছাত্রীদের তালিকা তৈরি করে সেটি জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাতে হবে। ছাত্রীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদের নাম ও ফোন নম্বর দিতে হবে।
উল্লেখ্য, পুরাতন মালদহ এবং ইংলিশবাজার থানা এলাকার বেশ কয়েকজন স্কুল ছাত্রী আচমকা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। সম্প্রতি, দুই ছাত্রীকে শিলিগুড়ি থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে পুলিশ। পরে জানা যায়, কোরিয়ার একটি ব্যান্ডে যোগ দেওয়ার উদ্দেশে তারা পালিয়ে গিয়েছিল। আবার, দুই ছাত্রীর একটি দল প্রেমের ফাঁদে পড়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েছিল।
পুলিশের একটি সূত্রে দাবি, একইধরনের একাধিক ঘটনায় দেখা যায় যে, সমাজ মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অনেককে ভিনরাজ্যে পাচার করে দেওয়া হয়। মালদহের একাধিক গ্রামে এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে।
পাচারচক্রের মাথাদের হাত থেকে স্কুল ছাত্রীদের বাঁচাতে এই উদ্যোগ বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। আবার পুলিশ ও প্রশাসনের অন্য একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামাঞ্চলে ছাত্রীদের কম বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতাও রয়েছে। এই ধরনের ঘটনা রুখতেও এই তালিকা কাজে লাগবে বলে মনে করছে প্রশাসন।