নয়াদিল্লি: নিজেদের সুরক্ষা, ভরণপোষণ ও মর্যাদার স্বার্থে বাবা-মা বা প্রবীণ নাগরিকরা তাঁদের সম্পত্তি থেকে সন্তানদের উচ্ছেদ করতে পারেন। লখনউয়ের একটি ঘটনায় লখনউয়ের একটি মামলায় এমনই রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি পি এস নরসিমহা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ২০০৭ সালের পেরেন্টস অ্যান্ড সিনিয়র সিটিজেন্স আইন অনুযায়ী যে ট্রাইব্যুনাল তৈরি হয়েছে, তাদের এই উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়ার অধিকার রয়েছে। একইসঙ্গে এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশও খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালে। লখনউয়ের বিকাশ নগরের বাসিন্দা রবিকান্ত গুপ্ত প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। রবিকান্ত জানান, তিনি তাঁর বাড়ি থেকে ছেলেকে উচ্ছেদ করতে চান। কারণ হিসাবে জানান, তাঁর ৮১ বছরের মাকে বাড়ি থেকে বের করা দেওয়া হয়েছিল। তিনি বৃদ্ধাবাসে থাকতে বাধ্য হন। প্রথমে মহকুমাশাসক এবং পরে জেলাশাসক রবিকান্তের ছেলে ও পুত্রবধূকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন রবিকান্তের ছেলে ও পুত্রবধূ। হাইকোর্ট জানায়, ২০০৭ সালের আইন অনুযায়ী কাউকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার অধিকার প্রশাসনকে দেওয়া হয়নি। তাই মহকুমাশাসক ও জেলাশাসকের আগের নির্দেশ খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। পালটা সুপ্রিম কোর্টে যান রবিকান্ত।
শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, হাইকোর্টের মতামত ঠিক নয়। প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রাইব্যুনাল উচ্ছেদের নির্দেশিকা জারি করতেই পারে। প্রবীণ নাগরিকদের দ্রুত স্বস্তি দিতেই এই আইন চালু হয়েছিল বলেও জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।