


লন্ডন: টেস্টে বিশ্বসেরা হওয়ার পর উৎসবে ভাসছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ক্রিকেটে এত বড় সাফল্য আগে কখনও পায়নি নেলসন ম্যান্ডেলার দেশ। বরং স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণাই দিনের পর দিন সঙ্গী হয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। লর্ডসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর উচ্ছ্বাস সেজন্যই আকাশছোঁয়া। এক কৃষ্ণাঙ্গ ক্যাপ্টেনের হাতে ট্রফি ওঠার মুহূর্ত হয়ে উঠছে প্রতীকী। তেম্বা বাভুমা স্বয়ং যাবতীয় ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে উৎসবে মেতে ওঠার আবেদন রেখেছেন। তাঁর কথায়, ‘যাবতীয় বিভেদ দূর করে একজোট হওয়ার সুযোগ এনেছে এই সাফল্য। আমি নিশ্চিত, দেশবাসী আমাদের সঙ্গেই উৎসবে মেতেছেন।’
লর্ডসে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ‘মেস’ (গদাকৃতি ট্রফি) ছোট্ট পুত্রের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বাভুমা। কয়েক সেকেন্ড সে হাতে ধরেও রেখেছিল তা। এরপর ছেলেকে কোলে নিয়েই ভিকট্রি ল্যাপ দেন প্রোটিয়া অধিনায়ক। সেই মুহূর্ত চিহ্নিত হচ্ছে ‘চোকার্স’ তকমার অবসান হিসেবে। রান তাড়া করার সময় এই শব্দটাই যে প্যাট কামিন্স বাহিনীর স্লেজিংয়ে বারবার উঠে এসেছিল। বাভুমার কথায়, ‘ব্যাটিংয়ের সময় ওরা সমানে খোঁচা দিয়ে যাচ্ছিল। ৬০ রানের মধ্যে আমাদের আট উইকেট পড়ে যাবে, এমন সব মন্তব্য ছুড়ে দিচ্ছিল কেউ কেউ। তবে আমি আর মার্করাম পাল্টা বলার রাস্তায় যাইনি। ওদের পাতা ফাঁদে পা দেব না, ঠিকই করেছিলাম।’
এদিকে, ডব্লুটিসি ফাইনালের নায়ক মার্করামের জন্য অভিনন্দনের ঢেউ উঠেছে। ২৮২ রানের টার্গেট তাড়া করে ডানহাতি ওপেনারের সেঞ্চুরিই তফাত গড়ে দেয়। ১৩৬ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে তিনি যখন ফেরেন, তখন জয় থেকে দূরত্ব মাত্র ছয় রানের। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসে এত গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস কেউ কখনও খেলেনি, এমনও বলছেন অনেকে। মার্করামকে ঘিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন লখনউ সুপার জায়ান্টসের ক্যাপ্টেন ঋষভ পন্থও। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘আইডেন ভাই, দুর্দান্ত খেলেছ। তোমার জন্য খুব আনন্দ পাচ্ছি। চাপের মুখে কী অসাধারণ ইনিংসই না খেললে। আমাদের সবাইকে গর্বিত করেছ তুমি। টেস্টে বিশ্বসেরা হওয়ার জন্য অভিনন্দন দক্ষিণ আফ্রিকা দলকেও।’
এই সাফল্যে বড় অবদান রয়েছে কাগিসো রাবাডার। তাঁর প্রশংসা করে বাভুমা বলেছেন, ‘সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল ও। চ্যাম্পিয়নের মতোই বল করল। দ্রুত আইসিসি-র হল অব ফেম-এ জায়গা করে নেবে রাবাডা।’