পানিহাটি স্পোর্টিংয়ের মাঠ ও অফিসে তালা,  বিধায়কের বিরুদ্ধে থানার দ্বারস্থ ক্লাবের একাংশ
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: দু’দিন ধরে তালাবন্ধ ১২৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাব। ক্লাবের অফিস ও মাঠ তালাবন্ধ থাকায় সমস্ত কাজ আটকে গিয়েছে। ফুটবল ও ক্রিকেটের প্রশিক্ষণ বন্ধ। ক্ষোভে ফুঁসছে প্রশিক্ষণ নিতে আসা পাঁচশোর বেশি  কচিকাঁচা ও তাঁদের পরিবার। এই আবহে ক্লাব কর্তৃপক্ষ খড়দহ থানায় ই-মেইল করে বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্লাবের অফিস ও মাঠে তালা লাগানোর অভিযোগ তুলেছে। যদিও বিধায়কের স্বামীর দাবি, তাঁরা কোনো চাবি লাগাননি। ক্লাবের মালি স্বেচ্ছায় ক্লাব অফিসে তালা লাগিয়ে চাবি তাঁদের হাতে দিয়েছেন। মাঠের চাবি কোথায়, তাঁরা জানেন না। আর এই নিয়ে পানিহাটি জুড়ে বিতর্ক আরও জোরদার হয়েছে। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, শনিবার বিকালে ক্লাবের মাঠে বিজয়া সম্মিলনি করতে হাজির হয়েছিলেন পানিহাটির বিধায়ক। কিন্তু ক্লাব বন্ধ থাকায় তিনি বাইরে কচিকাঁচাদের মিষ্টি খাইয়ে ফিরে যান। এ নিয়ে বর্তমান ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ক্লাবে বিধায়ক অনুষ্ঠান করবেন, আর চাবি পাবেন না, এটা হতে পারে না। তবে তাঁরা অনুষ্ঠানের বিষয়ে কোনো চিঠি পাননি। মালি পরিবারের অসুস্থতার জন্য চাবি নিয়ে বাড়ি চলে যাওয়ায় বিপত্তি হয়েছিল। 
কিন্তু পরের দিন অর্থাৎ রবিবার বিধায়ক সশরীরে ক্লাবে হাজির হন। এরপর ক্লাবের অফিসে তালা লাগিয়ে চাবি নিয়ে চলে যান। ক্লাব কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিধায়ক যাওয়ার পর ফের তাঁর দলবল সেখানে এসে হাজির হয়। তাঁরা নিজেদের বিধায়কের অনুগামী হিসাবে পরিচয় দিয়ে ক্লাবের মাঠে চাবি লাগিয়ে চলে যান। 
ক্লাবের প্রাক্তন সহ-সম্পাদক অরুণ রায়চৌধুরী বলেন, ১২৭ বছরের প্রাচীন ক্লাবে এই প্রথম সারাদিন তালা বন্ধ থাকল। আমরা বিধায়কের কর্মসূচির কথা জানতাম না। তাছাড়া মালির বাড়িতে ইমার্জেন্সি হওয়ায় তিনি বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। তা নাহলে বিধায়ককে ক্লাব ব্যবহার করতে দিতে সমস্যা কোথায়! ক্রিকেটে ৩৫০’র বেশি কচিকাঁচা প্রশিক্ষণ নেয়। ফুটবলে সেই সংখ্যা ১০০’র বেশি। সাঁতার কিছুদিন বন্ধ আছে। আমার ৪০ বছরের ক্লাব জীবনের ইতিহাসে এমন ঘটনা দেখিনি। বাধ্য হয়ে সমস্ত ঘটনা লিখিতভাবে খড়দহ থানাকে জানিয়েছি।পানিহাটির বিধায়কের স্বামী শেখররঞ্জন দেবনাথ বলেন, মালি নিজেই ক্লাবের অফিসে তালা লাগিয়ে বিধায়কের হাতে চাবি তুলে দিয়েছেন। বিধায়ক নিজে কোথাও চাবি লাগাননি। ওই চাবি বিধায়কের কাছে আছে। মাঠের চাবি কোথায় বিধায়ক জানেন না। কারণ, ওই চাবি বিধায়কের উপস্থিতিতে লাগানো হয়নি। আজ দলের কর্মসূচিতে বিধায়ক ব্যস্ত ছিলেন। কাল মাঠের চাবির বিষয়ে খোঁজ নেব। বাচ্চাদের খেলাধুলায় ছেদ পড়ুক, চান না বিধায়ক। ক্লাবের চাবির বিষয়ে বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেই পদক্ষেপ করা হবে।  নিজস্ব চিত্র