Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

খানাখন্দে ভরে গিয়েছে পানিহাটির রাস্তা, দুর্ঘটনার শঙ্কায় ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা

রাস্তা জানান দেবে আপনি এক পুরসভা ছাড়িয়ে অন্য পুরসভায় ঢুকছেন। শুনতে অবাক লাগলেও পানিহাটির রাস্তা দেখে তেমনই বলছেন নিত্যযাত্রীরা।

খানাখন্দে ভরে গিয়েছে পানিহাটির রাস্তা, দুর্ঘটনার শঙ্কায় ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: রাস্তা জানান দেবে আপনি এক পুরসভা ছাড়িয়ে অন্য পুরসভায় ঢুকছেন। শুনতে অবাক লাগলেও পানিহাটির রাস্তা দেখে তেমনই বলছেন নিত্যযাত্রীরা। কামারহাটির দিক থেকে নীলগঞ্জ রোড ধরে এলে বহিরাগত ব্যক্তিও বুঝতে পারবেন, সীমানা বদল হতেই বদলে গিয়েছে রাস্তার চেহারা। একদিকে, ঝাঁ চকচকে পিচ। অন্যদিকে, হাঁটু সমান গর্ত ও খানাখন্দে ভর্তি রাস্তা নদর্মার জল-কাদায় মাখামাখি। শুধু এই রাস্তা নয়, বিস্তীর্ণ আগরপাড়া এলাকা কার্যত মৃত্যুফাঁদ হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় হাঁটু সমান গর্ত হয়ে গিয়েছে। বর্ষার সময় গাড়ি ও বাইকের অর্ধেক ডুবে যাচ্ছে। নিকাশি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ড্রেনের জলও উঠে আসছে রাস্তায়। ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী। পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিটি রাস্তার টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। বর্ষার জন্য কাজ শুরু হচ্ছে না। বৃষ্টি কমলেই কাজ শুরু হবে। 
বি টি রোডের বিকল্প নীলগঞ্জ রোড। যানজট ও ট্রাফিক এড়িয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, স্কুল পড়ুয়া যাতায়াত করেন। কামারহাটি থেকে সোদপুর স্টেশন পর্যন্ত সোজা এই রাস্তা ধরে এগলে পুরসভা বদলে যাওয়ায় রাস্তার ভয়ঙ্কর চিত্র নজরে আসবে। কামারহাটির সীমানা চন্দনপার্ক তথা এক বেসরকারি কলেজের মোড় পেরলেই রাস্তা নদীর রূপ নিয়েছে। চারদিকে জল। আর রাস্তায় হাঁটু সমান গর্ত। এইভাবে পানিহাটি পর্যন্ত যত এগনো যাবে, ততই ভয়াবহ চিত্র নজরে আসবে। কিছু জায়গায় ইট ফেলা হয়েছে। সেগুলিও ওঠে কঙ্কাল বেরিয়ে গিয়েছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে ভেসে যাওয়া ড্রেনের নোংরা জল ও কাদা।
 এই রাস্তা থেকে পাঁচ নম্বর রেলগেট হয়ে তারাপুকুর মেইন রোডে ঢুকলে সেখানেও একই অবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি সোজা উষুমপুর বটতলা হয়ে বেলঘরিয়া, নিমতা সহ বিভিন্ন এলাকায় যাওয়া যায়। অথচ এই রাস্তার সিংহভাগ অংশে হাঁটু সমান গর্ত। বর্ষার জল জমে কোনটা চৌবাচ্চা, কোনওটা আবার নদীর রূপ নিয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে সাতটি স্কুলের পড়ুয়া সহ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। শুধু এই দুই রাস্তা নয়, আগরপাড়া পশ্চিম পল্লি, ঘোলা ওল্ড পোস্ট অফিস রোড, বেঙ্গল কেমিক্যাল থেকে শ্মশানঘাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ছাড়াও পাড়ার অলিগলির রাস্তা গ্রামকেও লজ্জা দেবে। 
পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে বলেন, নীলগঞ্জ রোডের পানিহাটি পুরসভার অংশ দিয়ে জলের পাইপ লাইন গিয়েছে। ভাঙা রাস্তা বর্ষার জন্য কেএমডিএ সারাতে পারেনি। বর্ষা কমলেই প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে ওই রাস্তা তৈরি হবে। তারাপুকুর মেইন রোডও আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হবে। প্রতিটি রাস্তার কাজের পরিকল্পনা হয়ে রয়েছে। 

Advertisement

- নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ