নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: অমরাবতী মাঠ অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন। কিন্তু জানুয়ারি মাসে পানিহাটি পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে অমরাবতী মাঠ নিয়ে হওয়া একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কীভাবে পুরসভা ওই সোসাইটির মাঠে উন্নয়নমূলক কাজের অনুমতি দিল। এমনকী, কাজ দেখভাল করার জন্য চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কমিটি গড়া হল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ সংস্থা জানিয়েছিল, তাদের কাছে টাকা নেই। সেক্ষেত্রে মাঠের একাংশ বেসরকারি সংস্থাকে লিজে দিয়ে সেই আয় থেকেই কাজ হবে। তাহলে সব জেনেও পুরসভা কেন অনুমতি দিয়েছিল?
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, জানুয়ারি মাসে পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে মাঠ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তাতে সোসাইটি ফর দ্য প্রোটেকশন অব চিলড্রেন ইন ইন্ডিয়ার এই মাঠ নিয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তাতে বলা হয়, ওই সংস্থা জনগণের স্বার্থে কমিউনিটি সেন্টার, সুইমিং পুল নির্মাণ, আউটডোর স্পোর্টস সহ
নানা জনহিতকর কাজের পরিকল্পনা নিয়েছে। ওইসব কাজের তদারকির জন্য পুরসভার চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কমিটি তৈরি করা হল। এই প্রসঙ্গে পুরসভার জলদপ্তরের সিআইসি তথা পানিহাটির বিধায়কের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ ফেব্রুয়ারি মাসে ফের মিটিং করার কথাও বলেছিলেন। বোর্ড মিটিংয়ের রেজলিউশনে সমস্ত তথ্য নথিবদ্ধও রয়েছে। অথচ, এই সোসাইটি পুরসভাকে দেওয়া চিঠিতে আর্থিক অবস্থার কথা জানিয়ে বলেছিল, পুরসভা তাদের ট্যাক্স মুকুব করুক। এখানেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যে সংস্থা ট্যাক্স দেওয়ার টাকা মুকুবের আবেদন জানায়, তাদের পক্ষে মাঠে এতসব জনহিতকর কাজ কীভাবে করা সম্ভব ছিল? তাহলে সব জেনেও পুরসভা কেন ছাড়পত্র দিল? অমরাবতী মাঠ বেসরকারি হাতে দেওয়ার চক্রান্তে প্রভাবশালীদের মদত ছিল কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই আবহে পানিহাটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতায় কোনও বদল আসবে কি না, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান মলয় রায় বলেন, ওই সংস্থা নিজের জমিতে উন্নয়নমূলক কাজ করতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিল। মাঠ জবরদখল হচ্ছিল। মানুষের স্বার্থে কাজ হবে বলে বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সংস্থা বেসরকারি সংস্থাকে জমি দেবে সেই কথা চিঠিতে ছিল না। সেই অনুমতি বা ছাড়পত্র পুরসভা দেয়নি। শুধুমাত্র উন্নয়নমূলক কাজে সম্মতি দিয়েছিল। মাঠে নির্মাণ শ্রমিকদের থাকার জন্য তৈরি হয়েছিল ঘর।