


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: রবিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল কামারহাটির বিএলওর। এবার তালিকায় নাম না থাকার চিন্তায় ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হলেন পানিহাটির গৃহবধূ। তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর স্বামী ক্যানসার আক্রান্ত। ঘটনায় শহরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, ভোটার তালিকায় নাম না থাকার চাপে তাঁর এই অবস্থা হয়েছে। শাসক দলের তরফে তীব্র আক্রমণ করা হয়েছে কমিশনকে। বিজেপির দাবি, শাসক দলের আজ্ঞাবহ হয়ে কিছু বিএলও এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
পানিহাটি পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণায়নের বাসিন্দা সাধনা মজুমদার (৪২)। স্বামী নাম অরিন্দম মজুমদার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় স্বামীর নাম থাকলেও তাঁর নিজের নাম ছিল না। ২০০২ সালের আগে তাঁর বাবা ও মায়ের মৃত্যু হওয়ায় তাঁদের নামও ছিল না। শুনানির নোটিস এসেছিল। সেখানে আধারকার্ড, প্যানকার্ড, ম্যারেজ রেজিস্ট্রি সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। ভোটার তালিকায় নাম ওঠা নিয়ে তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। রবিবার সকালে তিনি জানতে পারেন, তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এরপর তিনি আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে পানিহাটির নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন।
স্বামী অরিন্দম মজুমদার বলেন, আমার স্ত্রী দীর্ঘদিনের ভোটার। কমিশনের ডাকা শুনানিতে সমস্ত নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও নাম বাদ গেল কীভাবে? রবিবার ভোটার তালিকা দেখার পর ও অসুস্থ হয়ে পড়ে। শরীরের ডানদিক পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়েছে। আমি নিজে ক্যানসার আক্রান্ত। আমার স্ত্রী একমাত্র অবলম্বন ছিল। বাকি জীবন কীভাবে কাটাব? স্থানীয় কাউন্সিলার তথা তৃণমূলের মুখপাত্র সম্রাট চক্রবর্তী বলেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড আরও একটি সংসার ভাসিয়ে দিল।
অন্যদিকে, পানিহাটির ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোলা রামকৃষ্ণপুরের ১৫১ নম্বর বুথে ৩৫ জনের নাম বাতিল হয়েছে বলে অভিযোগ। একই পরিবারের চারজনের নাম উধাও। বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও নাম বাদ যাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা।