সংবাদদাতা, লালবাগ: মুর্শিদাবাদ জেলায় অন্যতম বিগ বাজেটের কালীপুজো আয়োজন করে পণ্ডিতবাগ যুব সংঘ। মুর্শিদাবাদ থানা এলাকার এই ক্লাবের শ্যামাকালীর প্রতিমা, মণ্ডপ ও আলোকসজ্জার শিল্পভাবনা প্রতিবছর দর্শনার্থীদের চমক দেয়। তার টানে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি পড়শি জেলা থেকেও হাজার হাজার মানুষ পণ্ডিতবাগে শ্যামাকালী পুজো দেখতে আসেন। উদ্যোক্তাদের দাবি, কলকাতা থেকেও দর্শনার্থীরা এখানে আসেন। এবারও কয়েকলক্ষ দর্শনার্থী তাঁদের মণ্ডপে আসবেন বলে উদ্যোক্তারা আশাবাদী।
২০১৯সালে ‘বাহুবলী’ সিনেমার বজরার আদলে মণ্ডপ গড়ে জেলার মানুষকে চমক দিয়েছিল লালবাগের এই ক্লাব। সেই মণ্ডপ দেখতে দু’দিন ধরে মানুষের ঢল নেমেছিল। সেই থেকে প্রতিবছর থিম বা শিল্পভাবনায় চমক দিয়ে আসছে পণ্ডিতবাগ যুব সংঘ। এবার ৫৬তম বর্ষে তাদের পুজোর থিম দিল্লির অক্ষরধাম মন্দির। লালবাগ-লালগোলা রাজ্য সড়কের পাশে পণ্ডিতবাগ মোড়ে প্রায় এক বিঘা জমির উপর ৮০ফুট উঁচু মণ্ডপ গড়ে তোলা হচ্ছে। মণ্ডপের পাশাপাশি প্রতিমাতেও অভিনবত্ব থাকছে। শায়িত শিবের বুকের উপর দাঁড়িয়ে শ্যামাকালীকে অসুর নিধন করতে দেখা যাবে। ৮নভেম্বর রবিবার বিকেলে পুজো উদ্বোধন করবেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের কার্তিক মহারাজ, বিএসএফের বহরমপুরের ডিআইজি(হেডকোয়ার্টার) মাহিন্দার লাল এবং লালবাগ মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সিদ্ধার্থ দরজি। ওইদিন প্রায় আড়াইহাজার মানুষকে শীতবস্ত্র বিলি করা হবে। এরপর সোমবার স্থানীয় শিল্পী সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার দুপুরে ১৫-২০হাজার মানুষকে পাত পেড়ে খিচুড়ি, পাঁচতরকারি ও চাটনি খাওয়ানো হবে। বুধ ও বৃহস্পতিবার কলকাতা ও বহিরাগত শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে।
পুজো কমিটির প্রধান উপদেষ্টা রাসু মণ্ডল বলেন, প্রতিমার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মণ্ডপ ও তিনদিকের রাস্তা আধুনিক আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ক্লাবের ১০০জন স্বেচ্ছাসেবী নজরদারি চালাবেন। মণ্ডপের পাশে মুর্শিদাবাদ থানার পুলিশের সহায়তা কেন্দ্র থাকছে। মণ্ডপ ও লাগোয়া ১০০মিটার এলাকা সিসি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হয়েছে।



