নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাসপোর্টের জন্য ভুয়ো নথি প্রস্তুত করার মূল পান্ডা গৌতম সর্দারের মাধ্যমে এক বছরে ৫০০-র বেশি জাল জন্ম শংসাপত্র তৈরি হয়েছে। গোসাবার পাঠানখালি পঞ্চায়েতের এই চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সঙ্গে বিভিন্ন সাইবার কাফের মালিকের যোগসাজশের তথ্য মিলেছে। কাফে থেকেই তার কাছে নকল নথি তৈরির ‘অর্ডার’ আসত। পাসপোর্ট কাণ্ডের তদন্তে নেমে এই তথ্য হাতে এসেছে সিকিওরিটি কন্ট্রোলের (এসসিও)। এই জাল শংসাপত্র যারা কিনেছে, তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র দিয়ে পাসপোর্ট তৈরির তদন্তে নেমে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, এই কারবারের মূল মাথা গৌতম সর্দার নামে এক ব্যক্তি। যারা এই জাল নথি জমা দিয়ে পাসপোর্টের আবেদন করেছিল, তাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করে এসসিও। তাদের সবারই জন্মের শংসাপত্র পাঠানখালি পঞ্চায়েতের দেওয়া। এখান থেকেই তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, পাঠানখালি পঞ্চায়েতে বসেই এই জাল নথি তৈরি হচ্ছে। গোটা কারবার চালাচ্ছে সেখানকার চুক্তিভিত্তিক কর্মী গৌতম। তার মাধ্যমে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গায় নকল নথি সরবরাহ হয়েছে। তদন্তকারীরা আরও জানতে পারেন, প্রতিটি জাল শংসাপত্র তৈরি করে দেওয়ার জন্য গৌতম তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নিত। এরপরই বিষয়টি জানানো হয় গোসাবা থানাকে। তারাই প্রতারণার অভিযোগে গৌতমকে গ্রেপ্তার করে। কয়েকদিন আগে তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে এসসিও।
অভিযুক্তকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং এলাকার বিভিন্ন সাইবার কাফেতে অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদনের জন্য আসেন অনেকে। তাঁদের বেশিরভাগেরই জন্মের শংসাপত্র থাকে না। ক্যানিংয়ে নিয়মিত যাতায়াত থাকার সূত্রে সেখানকার সাইবার কাফে মালিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে গৌতমের। ওই কাফে মালিকরা তাকে জন্মের শংসাপত্র তৈরি করে দিতে বললে সে রাজি হয়। এভাবেই জাল নথি তৈরির ‘হাতেখড়ি’ হয় গৌতমের। পঞ্চায়েত অফিসেই কাজ করায় জন্মের শংসাপত্র তৈরির যে ফরম্যাট রয়েছে, তা সে জানত। সেটি কাজে লাগিয়ে ভুয়ো সার্টিফিকেট তৈরি করে সে। এরপর ওই জেলার আরও কয়েকটি সাইবার কাফের মালিক এবং দালালরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাদের হাত ধরে অন্যান্য জেলার অসাধু সাইবার কাফে মালিকদের সঙ্গেও তার সম্পর্ক তৈরি হয়। তার কাছে সাইবার কাফের মালিক বা দালাল পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীর নাম পাঠালেই বাকি নথি সে তৈরি করে দিত। এভাবেই গত এক বছরে সে ৫০০’র বেশি ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র তৈরি করেছে বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। এসব নকল নথি জমা করে অনেকেই পাসপোর্ট হাতে পেয়েও গিয়েছেন। এমনকী বিদেশে পর্যন্ত চলে গিয়েছেন কেউ কেউ। তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।